সীতাকুন্ডে নিহত ফায়ার সার্ভিসকর্মী মনিরুজ্জামানের কুমিল্লার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

স্টাফ রিপোর্টার ।। চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতদের মধ্যে পাঁচজন ফায়ার সার্ভিসকর্মী। তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার নাম মো. মনিরুজ্জামান । তিনি কুমিল্লা ফায়ার স্টেশনে নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কমরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের নাইয়ারা গ্রামে। তিনি প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হকের ছেলে। নিহত মনিরুজ্জামানের দুই মাস বয়সী একটি কণ্যা শিশু রয়েছে। নিহত মনিরের বড় মামা মির হোসেন সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে (চমেক) এসে ভাগনের লাশ শনাক্ত করেন।
লাশ শনাক্তের পর হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করেন নিহত মনিরের মামা মির হোসেন।

তিনি জানান, মৃত্যুর আগে মো. মনিরুজ্জামান তাকে বলছিলেন, ‘আমার শরীর পুড়ে গেছে। আমি হয়তো আর ফিরব না। আমার কলিজা মেয়েটার মুখ আর দেখা হবে না মামা। তুমি একটু দেখে রাখিও।’

মির হোসেন জানান, মনির আট বছর আগে ফায়ার সার্ভিসে কর্মজীবন শুরু করেন। গেল দুই মাস আগে তিনি কুমিল্লা ফায়ার স্টেশনে যোগ দেন। দুই মাস বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে তার।

তার মামা মির হোসেন আরো বলেন, দুদিন আগে কুমিল্লা গিয়ে মনিরের সঙ্গে সারা দিন ঘুরেছি। অনেক আড্ডা দিয়েছি। সকালে ফোন করে তাকে পাচ্ছিলাম না। তাই হাসপাতালে ছুটে আসি। আমি তাকে চিনতে পেরেছি, সে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। কথাগুলো বলেই তিনি আবারও কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের ১৫ কর্মী এখনো সিএমএইচসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আরও দুই কর্মীর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান সিকদার। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুন্ডের ভাটিয়ারি এলাকার বিএম কনটেইনার ডিপোতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ঘটে। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে ইউনিট আরও বাড়ানো হয়।

এদিকে মনিরের মৃত্যুতে নিহত মনিরের নাইয়ারা গ্রামে চলছে শোকের মাতম। ওই গ্রামের সর্বত্রই কান্নার আওয়াজে ভারী হয়ে উঠছে বাতাস। বন্ধু মহলেও চলছে শোকের ছায়া। তার ছাত্রজীবনের বন্ধু মহল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকপ্রকাশ করা হচ্ছে। নিহতের মা শরিফা খাতুন(৭০) ও স্ত্রী মাহামুদা আক্তার মুক্তা (৩২) বার বার মুর্ছা যাচ্ছেন। তাদের কান্না আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠে অত্র এলাকায়।