স্কুলের মাঠ দিয়ে চলে যানবাহন : আতঙ্কে দিন কাটে ছাত্র শিক্ষক ও অভিভাবকদের

কুমিল্লার বাতাবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়-
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

কুমিল্লা মহানগরীর ২৩ নং ওয়ার্ডে বাতাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাতাবাড়িয়া উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় মাঠের মাঝখান দিয়ে রাস্তা, যাতায়াত করছে বিভিন্ন ধরনের হালকা ও ভারী যানবাহন। যেকোন মুহুর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ,হাড়িয়ে যেতে পারে কোমলমতি শিশুদের প্রাণ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় যে, বাতাবাড়িয়া গ্রামের বিশিষ্ঠ শিক্ষানুরাগী সুলতান আহম্মেদ ভূইয়া ও বসরত আলী ভূইয়া ১৯৭০ সালে গ্রামের কোমলমতি শিশুদের সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষে ৩০ শতক জমির ভিতরে স্কুল নির্মাণ করেন।
স্কুলটির পূর্বে পুরাতন একতলা বিল্ডিং বর্তমানে পরিত্যক্ত, উত্তরে দ্বিতল নতুন বিল্ডিং, পশ্চিমে বাতাবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ক্লাস রুম একতলা বিল্ডিং, দক্ষিণের একাংশে বাতাবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বিতল বিল্ডিং অফিসসহ ক্লাস রুম। বিদ্যালয়টির মাঝখান দিয়ে রাস্তা,রাস্তাটির পূর্ব পাশে প্রাইমারি স্কুল, পশ্চিম পাশে হাই স্কুল।
বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়েটিতে ২৩৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত। প্রধান শিক্ষকসহ ৯ জন শিক্ষক নিয়োজিত। অন্যান্য স্কুলের তুলনায় শিক্ষার্থীদের বার্ষিক ফলাফল অনেক ভাল ।
দূর দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা আসে নন্দপুর,মনিপুর, বাতাবাড়িয়া,চাঙ্গিনী,মটপুশকুনি, বিশ্ব রোড
বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শিক্ষার্থীরা স্কুল ক্যাম্পাসে আসার পরও স্কুল মাঠে যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় থাকতে হচ্ছে।
ছাত্রছাত্রীদের দাবী তারা খেলাধুলা করতে পারছেনা। তাই রাস্তাটি স্কুলের বাহির দিয়ে স্থানান্তর করে খেলাধুলাসহ নির্ভয়ে চলাফেরার সুযোগ করে দেওয়া হোক।
অভিভাবক সাইফুল ইসলাম বলেন,বাতাবাড়িয়া স্কুলের মতো কোন স্কুলের মাঝখান দিয়ে রাস্তা বা জনসাধারণের চলাচল এবং হালকা ও ভারী যানবাহন চলাচল করতে দেখিনি। আমাদের সন্তানদেরকে স্কুলে পাঠায়ে চিন্তামুক্ত থাকতে পারি না।আমাদের দাবি স্কুলের বাহির দিয়ে রাস্তাটি কে স্থানান্তর করে ছাত্র ছাত্রীদের কে মুক্তভাবে খেলাধুলার সুযোগ করে দেওয়া হউক।
নাম, প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষিকা জানান, আমাদের স্কুলের নামে খেলার সরঞ্জামের বরাদ্দ আসে কিন্তু গ্রহন করতে পারি না। আমরা শিক্ষিকার সংখ্যা বেশি , একজন মাত্র শিক্ষক। আমাদের ওয়াশ ব্লক নেই। ওয়াশ ব্লকের বরাদ্দ আসে কিন্তু গ্রহন করা যায় না, জায়গা না থাকায়। আমরা নারী আমাদের চরম কষ্ট হয় ওয়াশ ব্লকের অভাবে।

সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশিস ঘোষ বলেন,বাতাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তাতো বহুদিন হতে সমস্যা। স্কুলটি সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পরেছে, সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা নির্মানের অর্থ বরাদ্দ আছে কি না? রাস্তার জায়গায় দিবে কে? যদি সব ঠিক থাকে আমি প্রশাসনিক সকল ধরনের সহযোগিতা করবো।

সদর দক্ষিণ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রৌশনারা বেগম বলেন,বাতাবাড়িয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সমস্যাটি আমি অবগত। প্রধান শিক্ষিকা কে বলেছি রাস্তার স্কুল সীমানায় পিলার বসিয়ে দিতে।যে সকল গাড়ি জোর করে যাবে গাড়ি আটক করে যেন আমাকে ফোন করে, আমি দেখবো।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকা কামরুন্নাহার বলেন, আমি বহুবার আমার উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে রাস্তার বিষয়টি জানিয়েছি। করোনা কালীন সময়ে আমার বিদ্যালয়ের দুটি বাচ্চা সিএনজির সাথে ধাক্কা খেয়ে আঘাত পায়। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে মোটা পিলার বসিয়ে রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপের মুখে রাস্তাটি খুলে দিতে হয়েছে। দিন দিন ছাত্র ছাত্রীদের সংখ্যা বাড়ছে,অন্যদিকে যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ছে।

কুমিল্লা সিটির ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনিছু উজ্জামান বলেন, এই স্কুলের মাঝখানের রাস্তা নিয়ে স্কুল কমিটিসহ স্থানীয়দের সাথে অনেক বার কথা হয়েছে, তার রাস্তা দেওয়ার ব্যপারে আন্তরিক হলে আমি এমপি বাহার ভাই ও মেয়র রিফাত ভাই এর সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত রাস্তা করে দেবো।
এ ব্যাপারে স্কুল কমিটির সভাপতি জাহিদ হাছান পিন্টু বলেন, আমাদের স্কুল কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে একটি মিটিং করে রাস্তা বন্ধের লক্ষে উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা এবং উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ জেলা প্রাইমারি শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট আবেদন করা হবে। যাতে করে বাতাবাড়িয়া স্কুলের কোমলমতি শিশুরা নির্ভয়ে নিরাপদে স্কুলে এসে লেখা পড়া ও খেলাধুলা করতে পারে।