কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ ও সিটি করপোরেশন) আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের সমর্থনে সহস্রাধিক নারী বিএনপি নেতা-কর্মী বিক্ষোভে অংশ নেন। বুধবার (৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত নগরীর পূবালী চত্বর এলাকায় উত্তাল হয়ে ওঠে বিক্ষোভকারীদের মিছিলে। ধর্মসাগরপাড়স্থ দলীয় কার্যালয় থেকে মিছিল বের হয়ে নগরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পূবালী চত্বরে গিয়ে অবস্থান নেয়।
সেসময় পুরো এলাকা “অবৈধ প্রার্থী, মানিনা মানবো না”, “আমি কে তুমি কে, ইয়াছিন ভাই ইয়াছিন ভাই”, “জেল জুলুম, কারাগারে ইয়াছিন ভাই” এবং “নেতাকর্মীদের সুখে দুখে ইয়াছিন ভাই, ইয়াছিন ভাই”– এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নারী নেত্রী-কর্মীরা অভিযোগ করেন, মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থী দীর্ঘদিন স্থানীয় রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলেন। এতে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তারা মনোনয়ন বঞ্চনাকে ‘অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে দাবি করে দলীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
এর আগে, মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হাজী ইয়াছিনের অনুসারী শত শত নেতাকর্মী মশাল মিছিল নিয়ে রাস্তায় বের হয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে। তার আগের দিন সোমবার রাতেও বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা কান্দিরপাড় এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। পরে আলেখারচর এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কেও আংশিক অবরোধ সৃষ্টি হয়। এতে সাময়িকভাবে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং পুরো শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মনোনয়ন নিয়ে এই বিতর্ক ও ক্ষোভ কুমিল্লা-৬ আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তারা আশঙ্কা করছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত সমাধান না করলে এই ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন বিএনপির জেলা পর্যায়ের নেতৃত্বে থাকা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন ছিলেন দলের সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক। এছাড়াও, তিনি বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্যও। তাঁর প্রতি তৃণমূল নেতাকর্মীদের আনুগত্য ও ভালোবাসা দীর্ঘদিনের। তাই হাজী ইয়াছিনকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়ায় কুমিল্লা বিএনপির রাজনীতিতে এখন স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখার আহ্বান জানানো হলেও, তৃণমূলের ক্ষোভ এখনো প্রশমিত হয়নি। ফলে কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপির নির্বাচনী মাঠে অনিশ্চয়তা ও উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ২৩৭ টি আসনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা দেন। এসময় কুমিল্লার ৯ টি আসনে মনোনয়ন দেন দলটি। কুমিল্লা-৬ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয় বিএনপি’র চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে।