স্টাফ রিপোর্টার।।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুমিল্লাজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। ঈদকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের কেনাকাটা, ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত, মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কোরবানির পশুবাহী গাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ গড়ে তুলেছে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয়। এরই অংশ হিসেবে গত এক মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে মোট ১২৫ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে দেশি-বিদেশি অস্ত্র, চোরাই মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।
পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে, জেলার অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিবিড় নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির ঝুঁকি মোকাবিলায় নগর ও মহাসড়ক এলাকায় গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এককভাবে ডিবি পুলিশ ৪৬ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এছাড়া কোতোয়ালি থানা ৩৮ জন, সদর দক্ষিণ থানা ২০ জন, ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ি ১৭ জন এবং বুড়িচং থানা ৪ জন ছিনতাইকারীকে আটক করে। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একইসঙ্গে ডিবির পৃথক অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার এবং চোর চক্রের সদস্যদের আটকসহ একটি চোরাই মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।
এ বিষয় জানতে চাইলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও নদীপথ বেষ্টিত হওয়ায় কুমিল্লায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচার, ছিনতাই ও চুরি-ডাকাতির প্রবণতা রয়েছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর অপরাধের ধরন বিশ্লেষণ করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর কৌশল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করি। থানা পুলিশের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখাকে অধিক গতিশীল ও কার্যকর করেছি।
অন্যদিকে ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদকবিরোধী অভিযানও জোরদার করা হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সীমান্তবর্তী থানাগুলোর ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, ইস্কাফ, ফেয়ারডিল, বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, উৎসবকেন্দ্রিক সময়ে মাদক চোরাচালান ও অপরাধচক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই সীমান্ত এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।