কুমিল্লায় উদযাপিত হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস,
বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন বলেছেন, চাঁদাবাজী,অবৈধ দখলদার ও মামলা বানিজ্য ৫ আগস্ট চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। একটি বৈষম্যমুক্ত সমাজ বির্নিমাণ করতে হলে সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে হলে কুমিল্লাকে সারা দেশের কাছে ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরতে হলে সর্বক্ষেত্রে দূর্নীতি বন্ধ করতে হবে। দূর্নীতি আর সুশাসন কখনো এক সাথে চলতে পারে না। তিনি গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে জুলাই পরিবার ও জুলাই যোদ্ধা সম্মিলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন। সাবেক এমপি হাজী ইয়াছিন প্রশাসনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন,যেখানে আমি নিজে বলেছি, আমার সন্তানও যদি চাঁদাবাজি করে তাহলে তাকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক। অবৈধ দখলদার, চাঁদাবাজ ও মামলা বানিজ্য যারা করে তাদের পক্ষে আমি কিংবা আমার দল বিএনপি দাঁড়াবে না। তারপরও কেন মানুষ বলছে কুমিল্লায় চাঁদাবাজ হচ্ছে। এই ব্যর্থতার দায় কিন্তু প্রশাসনকেই নিতে হবে। যে কোন মূল্যে কুমিল্লা থেকে চাঁদাবাজ,অবৈধ দখলদার ও মামলা বানিজ্য নির্মূল করার জন্য পুলিশ সুপারের প্রতি তিনি আহবান জানান। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়ছারের সভাপতিত্বে কুমিল্লায় জুলাই পরিবার ও জুলাই যোদ্ধা সম্মিলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন,কুমিল্লা পুলিশ সুপার নাজির আহমেদ খান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল বাশার,কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবু, জামায়াত ইসলামী কুমিল্লা মহানগরের আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ মোল্লা টিপু। এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুল, জামায়াত ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান, এনসিপির কুমিল্লার মূখ্য সংগঠক সিরাজুল ইসলাম,এনসিপি নেতা রাশেদুল হাসান,যুগ্ম সমন্বয়ক মাসুমুল বারী কাওসার, জুলাই যোদ্ধা বিল্লাল হোসেন রাজী , জুলাই যোদ্ধা, আবু সাঈদ রাফি,ইয়াসির আরাফাত,মো সালাম, নবী নেওযাজ,আবদুল্লাহ আল বাকী, শহীদ মাসুমের পিতা ও শহিদ হামিদুর রহমান সাদমানের মাতা কাজী শারমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পঙ্কজ বড়ুয়া। আলোচনা সভা শুরুর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এবং প্রধান উপদেষ্টার রেকর্ডকৃত বক্তব্য প্রচার করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত করেন কুমিল্লা মডেল মসজিদের ইমাম মাওলানা শাহাদাত হোসেন, গীতা পাঠ করেন রানী পাল, ত্রিপিঠ পাঠ করেন শ্রী ভদ্র মহাথের এবং বাইবেল পাঠ করেন নিখিল যোসেফ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার মালিহা সুলতানা ও নজরুল ইন্সিটিটিউট কুমিল্লা কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিন। এর আগে কুমিল্লায় উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপিত হয়েছে। কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিজয় র্যালিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। মঙ্গলবার সকালে নগরীর উত্তর রামপুর এলাকায় ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ মাসুম মিয়ার কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।