কুমিল্লার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ-এ জলাবদ্ধতার মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা। ক্যাম্পাসজুড়ে পানি জমে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে পা তুলে বসে পরীক্ষা দিতে দেখা গেছে, যা নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া পরীক্ষায় কয়েকটি কক্ষে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে শিক্ষার্থীরা বেঞ্চের ওপর পা তুলে বসে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হন। অনেক কক্ষের মেঝে ভেজা, আবার কোথাও সরাসরি পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক পরিবেশ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
বর্ষা মৌসুম শুরু না হলেও টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কলেজের অনার্স ও ডিগ্রি শাখা এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশ হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। ব্যবসায় শিক্ষা ভবনের নিচতলা সম্পূর্ণ পানির নিচে, পাশাপাশি কলা ভবন, মিলেনিয়াম ভবন এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নিচতলাও জলমগ্ন। অনেক শিক্ষার্থীকে পানির ভেতর দিয়েই পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে।
পরীক্ষার্থী নজরুল ইসলাম বলেন, “মনে হচ্ছে আমরা বন্যার মধ্যে ভেসে পরীক্ষা দিচ্ছি। এমন পরিস্থিতিতে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন।”
শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার জানান, “অনার্সে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই এই দুর্ভোগ দেখে আসছি। পরীক্ষা শেষ হতে চললেও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।” একজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বলার ভাষা নেই। টেবিলের ওপর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে, পড়ে গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। চার ঘণ্টা এক পা তুলে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব?”
শিক্ষার্থী তানভীর আলম জানান, কলেজের সামনের সড়কেও হাঁটুর ওপর পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেক অটোরিকশা মাঝপথেই বিকল হয়ে পড়ছে, ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহনাজ আক্তার বলেন, “এটি কুমিল্লার অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান নেই।”
কলেজের অধ্যক্ষ আবুল বাশার ভূঁঞা জানান, আশপাশের এলাকা উঁচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি ক্যাম্পাসে জমে যায়। বিশেষ করে দক্ষিণ পাশে সীমানাপ্রাচীর না থাকায় পানি সহজেই প্রবেশ করে। তিনি আরও জানান, প্রায় ৪০ লাখ টাকার একটি প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিম, দক্ষিণ ও পূর্ব পাশে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সমস্যার প্রায় ৭০ শতাংশ সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।