কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শয্যা এক হাজারে উন্নীত করা হবে- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী

হৃদয় হাসান।।
প্রকাশ: ৯ ঘন্টা আগে

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। একই সঙ্গে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা এক হাজারে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গতকাল শনিবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন অডিটোরিয়ামে ইন্টার্ন সমাপনী অনুষ্ঠান (কুম-২৯) ও ডাক্তার পুনর্মিলনী-২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
মন্ত্রী বলেন, মেডিকেল কলেজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বরাদ্দের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সরকারি মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতি যাতে দ্রুত নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের যত্নবান হতে হবে। যন্ত্রপাতির নির্ধারিত কার্যকাল পর্যন্ত সেগুলো কার্যকর রাখা নিশ্চিত করতে হবে।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, রোগীরা চিকিৎসকের কাছে এসে চান, চিকিৎসক যেন তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, শারীরিক সমস্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। রোগীকে যথেষ্ট সময় দেওয়া ও তাঁর সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে শোনার মাধ্যমে চিকিৎসক রোগীর মনে আস্থা ও মানসিক স্বস্তি তৈরি করতে পারেন। চিকিৎসার পাশাপাশি রোগীর প্রতি আন্তরিকতা ও মানবিক আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিবেশদূষণ ও খাদ্যের গুণগত মান মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে। মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ক্ষতিকর কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকদের রোগীদের ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি সুস্থ থাকার উপায় সম্পর্কেও সচেতন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে পরামর্শ দিতে হবে। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ বিষয়ে চিকিৎসকেরা মানুষকে সচেতন করলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
নতুন চিকিৎসকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, চিকিৎসা পেশায় প্রবেশের পর তাঁদের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। রোগীদের প্রতি আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা মানুষের জন্য ভালো কিছু করবেন, সমাজের জন্য ভালো কিছু করবেন। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পৃথিবী রেখে যেতে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাছুম হাছানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. সজিবম কুমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান,কুমেকের সাবেক অধ্যক্ষ ডা.মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, ডা. আবুল কালাম আজাদ, ডা. নাসির উদ্দিন, কুমিল্লা জেলার সিভিল সার্জন ডা. জহিরুল ইসলাম, বিএমএ কুমিল্লার সাবেক সভাপতি ডা. ইকবাল আনোয়ার, গোমতী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মজিবুর রহমান, বিশিষ্ট শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. নিলুফা পারভীন প্রমুখ।
বিশিষ্ট ড্যাব নেতা ডা. সফিকুর রহমানের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সাবেক ড্যাব সভাপতি ডা. মিনহাজুর রহমান তারেক।
এ সময় কুমিল্লা মডার্ণ স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সাংবাদিক শাহাজাদা এমরান, আতাউর রহমান ছুটি, ডা. আবু তাহের মুহিতসহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।