ক্যানসার আক্রান্ত ১৫ বছরের রিয়াদকে বাঁচাতে মায়ের আকুতি

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি।।
প্রকাশ: ১৬ ঘন্টা আগে

মেঘনার নির্মম ভাঙনে ভিটেমাটি বিলীন হয়ে সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব পরিবার। এর ওপর ১৫ বছরের একমাত্র সন্তান রিয়াদের শরীরে দানা বেঁধেছে মরণব্যাধি ক্যানসার।

চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত উন্নত চিকিৎসা পেলে কিশোর রিয়াদ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। তবে বর্তমানে তার চিকিৎসায় প্রতি সপ্তাহে ১২-১৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, যা এই অসহায় পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই জাতীয় সংসদের হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজানসহ দেশের বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহায়তার আকুল আবেদন জানিয়েছেন রিয়াদের মা-বাবা।

‎পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে চার বছর বয়সে প্রথম রিয়াদের গলায় টিউমার দেখা দেয় এবং ক্যানসার শনাক্ত হয়। সেই সময় আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় চিকিৎসা করা হলে সে কিছুটা সুস্থ হয়। এতে আত্মীয়স্বজনদের সহায়তা ছাড়াও পরিবারের সঞ্চিত থাকা তিন লাখ টাকা খরচ হয়।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, ওই একই বছর মেঘনা নদীর ভাঙনে তলিয়ে যায় তাদের শেষ সম্বল বসতবাড়িটি। গৃহহীন হয়ে রিয়াদের বাবা নোয়াখালীর ফেনী শহরের একটি গরুর খামারে মাত্র ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি শুরু করেন। সেই সীমিত আয়ে সংসার চালানো আর ছেলের চিকিৎসার দেনা মেটাতে গিয়ে নতুন করে মাথা গোঁজার ঠাঁই করা আর সম্ভব হয়নি। এরইমধ্যে রিয়াদ নোয়াখালীর ফেনী শহরের একটি মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে।

‎দীর্ঘদিন স্বাভাবিক থাকার পর চলতি বছরের মার্চে রিয়াদ তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও দেশের বাইরের বায়োপসি রিপোর্টে তার পেট ও তলপেটে ক্যানসারের পুনরাবৃত্তি ধরা পড়ে।

‎বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ক্যানসার ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকদের অধীনে তার চিকিৎসা চলছে। পরামর্শ অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে তাকে একটি করে কেমোথেরাপি দিতে হচ্ছে, যার পেছনে মাসে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। গত পাঁচ মাস ধরে মানুষের সাহায্য-সহযোগিতায় চিকিৎসা চললেও এখন আর পরিবারের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধের মুখে রিয়াদ বর্তমানে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৩নং চর লরেন্স ইউনিয়নে খালার বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে একপ্রকার মৃত্যুর প্রহর গুনছে।

রিয়াদের মা মনোয়ারা বেগম অশ্রুসজল চোখে বলেন, নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছি, সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে গৃহহীন হয়েছি। আজ আমার একমাত্র সন্তান আবার মৃত্যুর মুখে। ডাক্তার বলেছেন চিকিৎসা পেলে ও সুস্থ হবে। আমি আমার সন্তানকে বাঁচাতে আমাদের স্থানীয় এমপি ও হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান স্যার এবং দেশবাসীর কাছে সাহায্য চাচ্ছি।

‎অশ্রুসজল চোখে রিয়াদের খালা মরিয়ম আক্তার বলেন, বোনের একমাত্র ছেলে রিয়াদের চিকিৎসার টাকা জোটাতে আমরা স্থানীয় কয়েকটি বাজারে ভিক্ষুকের মতো মানুষের কাছে হাত পেতেছি, আত্মীয়-স্বজনদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি; যা পেয়েছিলাম তা দিয়ে এতদিন রিয়াদের কেমোথেরাপি চলেছে। কিন্তু আগামী সপ্তাহে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার বা কেমোথেরাপি দেওয়ার মতো একটা টাকাও ঘরে নেই। সন্তানতুল্য রিয়াদকে বাঁচাতে দয়া করে আপনারা সবাই একটু পাশে দাঁড়ান।

রিয়াদকে সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: অ্যাকাউন্ট নম্বর- ৭৮৬৩২৪১০০৩৭৪৩৮৯১, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (UCB), কমলনগর শাখা।