চুরির অভিযোগে নারীকে মারধর; ভিডিও ভাইরাল

চান্দিনার ঈদ বাজারে চোরের তৎপরতা
চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।
প্রকাশ: ৩ দিন আগে
চুরির অভিযোগে নারীকে মারধর

ঈদ বাজারে তৎপরতা বেড়েছে চোর চক্রের। কুমিল্লার চান্দিনায় প্রতিদিনই কোন না কোন দোকানে চুরির ঘটনা ঘটছে। ওইসব ঘটনা প্রায়ই দোকানির সিসি টিভি ফুটেজে ধরা পরলেও এবার হাতেনাতে চোর ধরার অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। এক নারী ক্রেতার ব্যাগ থেকে নগদ ৫ হাজার টাকা চুরির অভিযোগে এক নারীকে বেধরক মারধর করে স্থানীয় কিছু দোকানি। ওই নারীকে মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্তে ভাইরাল হয়। ওই ভাইরাল ভিডিও নিয়ে ফেসবুকে চরম সমালোচনার ঝড় উঠে।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) দুপুরে বাজারের বাবুন চৌধুরী মার্কেটে ওই ঘটনা ঘটে। ওই ভিডিওতে দেখা যায় কালো বোরকা পরিহিত এক নারীকে একটি কাপড় দোকানে নিয়ে চুরির অভিযোগ তুলে যে যেমন পারছেন তেমন ভাবে হেনস্তা করেন। স্বপন নামে এক ফল ব্যবসায়ী ওই নারীকে একের পর এক কিল ঘুষি মেরে চুল ধরে টানাটানি করে। এক পর্যায়ে ওই নারীর নেকাপ ও বোরকা খুলে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করে। সালাম নামের এক কাপড় ব্যবসায়ী মাঝে এসে মারধর থেকে তাকে রক্ষা করে। এসময় ওই নারী সকলের উপস্থিতিতে চলে গেলেও কেউ তাকে আটক করেনি বা পুলিশে দেয়নি।

এদিকে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা করেন নেটিজেনরা। ওই নারীকে প্রকাশ্যে শতশত মানুষের মাঝে এভাবে মারধর করা, হেনস্তা করাকে নারী নির্যাতনের সামিল বলে মনে করছেন তারা। ওই নারীকে পুলিশে না দিয়ে মারধর করাকে অমানবিক বলে দাবী করেন অনেকে।

স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ঘটনাটি মার্কেটে ঘটলেও ঈদের বেচাকেনার মুহুর্তে ওই নারীকে পুলিশে দেয়া এবং মামলা করাকে ঝামেলা মনে করে কেউ পুলিশে ফোন দেয়নি। কয়েকজন তাকে মারধর করে ছেড়ে দেয়। তবে ওই নারীকে হাতেনাতে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

চান্দিনা বাজারের ব্যবসায়ী আলী হোসেন জানান, ওই নারী যদি চোরও হয়ে থাকে তাহলেও তাকে এভাবে জনসম্মুখে মারধর করা মোটেও ঠিক হয়নি। তার অপরাধ থাকলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়া উচিত ছিল। যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।

এ ব্যাপারে চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম জানান, ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। যারাই ওই নারীকে হেনস্তা করেছে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর তারা পলাতক। তাদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।