চৌদ্দগ্রামে মাদক কারবারে বাধা দেওয়ায় হামলা, ভাঙচুর-লুটপাট

আবুল বাশার রানা, চৌদ্দগ্রাম ।।
প্রকাশ: ৬ ঘন্টা আগে

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক সেবন ও বেচাকেনায় বাধা দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দফায় দফায় হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি মাদক কারবারি চক্রের বিরুদ্ধে। হামলাকারীরা দোকান থেকে নগদ ৪৫ হাজার টাকা ও মালামাল এবং পরদিন ওই ব্যবসায়ীর বসতঘর থেকে নগদ ২ লাখ টাকা, চার লক্ষাধিক টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কারসহ দামি মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। হামলার সময় ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীকে মারধর এবং স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টারও অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের কাদঘর গ্রামে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. মেহেদী হাসান প্রকাশ রাসেল (৩৫) বাদী হয়ে রোববার (৪ অক্টোবর) চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ২৫-৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং আসামিদের আটকে তৎপর রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

থানায় দায়ের করা মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে কাদঘর গ্রামের কয়েকজন মাদক কারবারি স্থানীয় কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মারধর করে তার একটি গরু নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে গরুটি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করে। গরু উদ্ধারে পুলিশকে সহযোগিতা করার সন্দেহে ব্যবসায়ী মেহেদী হাসানের ওপর ক্ষিপ্ত হন অভিযুক্তরা।

এর জের ধরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে আহম্মদ উল্লাহ (৩৬), জাহিদ হাসান (৩৫) ও মো. রাহাত (৩০)সহ তাদের সহযোগীরা মেহেদী হাসানের দোকানের সামনে গিয়ে তাকে গালমন্দ করেন। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তারা দোকানে হামলা চালিয়ে দুটি ফ্রিজ, দুটি অ্যালুমিনিয়ামের র‌্যাকসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর ও নষ্ট করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলায় বাধা দিলে মেহেদী হাসানকে মারধর করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরে দোকানের ক্যাশে থাকা ৪৫ হাজার টাকা ও অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এতে প্রায় আড়াই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনার পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় একই ব্যক্তিরা ও তাদের সহযোগীরা মেহেদী হাসানের বসতবাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি আলমিরায় থাকা নগদ ২ লাখ টাকা এবং চার লক্ষাধিক টাকা মূল্যের প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ দামি মালামাল লুট করে নেওয়া হয়। হামলাকারীরা মেহেদী হাসানের স্ত্রী শারমিন আক্তারকেও মারধর এবং তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত মেহেদী হাসান ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন বলে জানা গেছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলার প্রধান অভিযুক্ত আহম্মদ উল্লাহ ও জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও বেচাকেনা, চুরি-ছিনতাই, রাহাজানি এবং স্কুলগামী ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জাহিদ হাসান দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত থাকায় পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে একাধিকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হলেও তার আচরণে পরিবর্তন আসেনি। স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে এবং ওই মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে ওই চক্রের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী সোচ্চার হওয়ায় তারা প্রতিবাদী ও সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে চক্রটি। এ অবস্থায় মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, শুভপুর ইউনিয়নের কাদঘর গ্রামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আসামিদের আটকের ব্যাপারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।