মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের অধীনে অগভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ দেড় বছরেও শেষ হয়নি। পাইপ বসানো ও মোটর সংযোজনের পর থেকেই বাকি কাজ বন্ধ রেখে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে বরাদ্দ পাওয়া পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর।
অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের’ আওতায় ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে হরিরামপুর উপজেলায় সাবমার্সিবলযুক্ত মোট ১০৪টি অগভীর নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হয়। মেসার্স রহমান এন্টারপ্রাইজ কাজের দায়িত্ব পায় এবং ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল এ সংক্রান্ত কার্যাদেশ জারি হয়। কার্যাদেশে নির্ধারিত সময়সীমা এক বছরের হলেও দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ সম্পন্ন হয়নি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১০ মাস আগে বেশিরভাগ নলকূপে পাইপ বসানো ও মোটর সংযোজন করা হলেও এখনো স্ট্রাকচার নির্মাণ, পানির ট্যাংক বসানোসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি রয়েছে।
গ্রাহকরা জানান, একাধিকবার মৌখিকভাবে অধিদফতরকে বিষয়টি জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে নলকূপের সুবিধা না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবারগুলো।
একাধিক ভুক্তভোগীদের অভিযোগ নলকূপ তৈরির সকল উপকরণ ঠিকাদারের সরবরাহ করার কথা থাকলেও গ্রাহকদের কাছ থেকেই নেওয়া হয়েছে সিলেকশন বালু, পরিবহন খরচ, শ্রমিকদের খাবার ও বখশিস বাবদ অতিরিক্ত টাকা। এমনকি বোরিং ফ্লুইড হিসেবে বেন্টোনাইট ক্লে ব্যবহারের বদলে গোবর ব্যবহার করা হয়েছে, যার ব্যবস্থাপনাও গ্রাহকদেরই করতে হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিটি পরিবারকে অতিরিক্ত ২ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত গুণতে হয়েছে।
উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন জানান, আমাকে সিলেকশন বালু বাবদ ১২০০ টাকা, মালামাল আনার জন্য ৫০০ টাকা, বখশিস ৫০০ টাকা এবং শ্রমিকদের খাওয়াতে আরও ৫০০ টাকা দিতে হয়েছে। পাইপ বসানোর পর অনেকদিন হয়ে গেলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। আমরা খুবই ভোগান্তির মাঝে রয়েছি।
এ বিষয়ে ঠিকাদার সৈয়দ আহম্মেদ বলেন, উপজেলা থেকে সময়মতো সাইট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। তাই কাজ শুরুতে বিলম্ব হয়েছে। কাজ চলমান আছে। নিউজ করে কী হবে? নিউজ করে যা পারেন করেন।
অন্যদিকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট ২৪টি এবং চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি আরও ৭৮টি সাইট ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনদিন আগে বাকি ২টি সাইটও হস্তান্তর করা হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ বন্ধ থাকায় কিছুদিন কাজ বন্ধ ছিল। আশাকরি খুব শিগগিরই কাজ শেষ হবে।
এবিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী গাজী ফাতিমা ফেরদৌস বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।