নাঙ্গলকোটে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ৬ আহত ১৫

তাজুল ইসলাম,নাঙ্গলকোট।।
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে পূর্ব বিরোধ ও ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শেখ ফরিদ গ্রেফতারের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে ৬ জন গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ আলিয়ারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধরা হলেন- রোকন আলীর স্ত্রী শরিফা বেগম (৬০), জাকির হোসেনের ছেলে ওসমান (১৬), জাকির হোসেনের স্ত্রী সুফিয়া বেগম (৫০), বশির আহম্মেদের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম (৫৫), কাজী রোকন আহমদের পুত্র কাজী কবির (৩৫),রুস্তম আলীর ছেলে আবু তাহের (৬০)।

আহতদের  নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নাঙ্গলকোট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দায়িত্বরত ডাক্তার শিমা মজুমদার জানান, দুপুর ১.৩০ মিনিটের দিকে তিন নারী ও এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। তাদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

গুলিবিদ্ধ হোসনেয়ারা বেগম বলেন, বেলা ১১টার দিকে দোতলা মসজিদের সামনে শেখ ফরিদের লোকজন এসে আমাদের গুলি করে। এতে আমিসহ অনেকেই গুলিবিদ্ধ হয়।

 জানা যায়, গত ২৩ জুন সোমবার দুপুরে বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের আলিয়ারা ওয়ার্ড সাবেক মেম্বার খায়ের আহম্মদের গরু রশি ছিঁড়ে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে গরুটিকে মারপিট করে প্রতিপক্ষ। এঘটনায় খায়ের মেম্বার প্রতিবাদ করায় পার্শ্ববর্তী বাড়ীর শেখ ফরিদ, আশ্রাফুল, জনি, শহীদ, সজিব, রিয়াদ একত্রিত হয়ে মেম্বার খায়ের আহম্মদের উপর হামলা চালায়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের উত্তেজনা নিরসন করার উদ্যোগ গ্রহণ করাকে কেন্দ্র করে ২৫ জুন বুধবার বিকালে খায়ের মেম্বারের চাচাতো ভাই একই গ্রামের সৌদিআরব প্রবাসী নূর মোহাম্মদের উপর হামলা চালায় অভিযুক্তরা। সর্বশেষ রবিবার সকালে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মুন্নাকে পুলিশ গ্রেফতার করলে এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে একই দিন বিকালে মামলার বাদি, সাক্ষী ও তাদের আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাট চালায় অভিযুক্তরা। এ ঘটনায় সোমবার সকালে জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা চেয়ে সেনা বাহিনীর কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভূক্তভোগীরা। পরে সোমবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নাঙ্গলকোটে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনী অফিসার ও সদস্যগণ।

 বৃহস্পতিবার মামলার প্রধান আসামী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শেখ ফরিদকে মুরাদনগর থেকে গ্রেপ্তার করে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ।  এ ঘটনার জের ধরে শুক্রবার সকালে উভয়পক্ষ আবারো সংঘর্ষে জড়ায়।

নাঙ্গলকোট থানার ওসি একে ফজলুল হক  জানান, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীসহ পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাইনি। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।