বিশেষ প্রতিনিধি ।।
কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের অধীন ছয় জেলায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য কলেজগুলোতে পর্যাপ্ত আসন থাকলেও শিক্ষার্থী সংকটে পড়তে পারে অনেক প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছরের মত এবছরও ১০থেকে ১৫শতাংশ শিক্ষার্থী অন্য বোর্ডে স্থানান্তর বা ট্রেড পরিবর্তন করতে পারে। চলতি বছর বোর্ডের অধীন ১ হাজার ৮২৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। বিপরীতে, ছয় জেলার ৪৭৩টি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার ২৮৫টি। ফলে পাস করা শিক্ষার্থীর তুলনায় কলেজে আসন বেশি ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৬টি।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৩৫ জন। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। অন্যদিকে, একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ৭৪ হাজার ৪২৫টি, মানবিক বিভাগে ৯৮ হাজার ২৭০টি এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৯০ হাজার ৫৯০টি আসন রয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই শিক্ষার্থী সংকট রয়েছে, সেসব কলেজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এদিকে এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণের পর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ফেল থেকে পাস করেছেন ৩৩৬ জন শিক্ষার্থী। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ২০৭ জন। সব মিলিয়ে পুনঃনিরীক্ষণের পর ১ হাজার ৯৪৪ জন শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে।
কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটন বলেন, উচ্চ শিক্ষিত বেকার সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় পড়ালেখার প্রতি মাধ্যমিক শাখার শিক্ষার্থীরা ঝড়ে পড়ছে। যে কারনে বর্তমানে কলেজে যে পরিমাণ একাদশ শ্রেণিতে আসন সংখ্যা রয়েছে তার অনেক কম সংখ্যক শিক্ষার্থী এসএসসি সমমানের পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে ও উত্তীর্ন হয়।
শশীদল আলহাজ্ব মুহাম্মদ আবু তাহের কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আবুল হোসেন সরণ বলেন, শিক্ষার্থী কমে গেলে কলেজগুলোর আয় ও শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থানও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে আগে থেকেই শিক্ষার্থী সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে মানসম্মত শিক্ষা, পর্যাপ্ত শিক্ষক ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
কুমিল্লা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর মাসউদ বলেন, যে সকল প্রতিষ্ঠান
শিক্ষার গুনগত মান ধরে রাখতে পারবে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সঠিক তত্বাবধান করবে
সেখানটায় আসন খালি থাকবে না। চটকদার বিজ্ঞাপন, রিক্সার পেছনে স্টিকারে সেরা কলেজের তালিকা দেখে কেহ যেন প্রতারিত না হয় সেটাও দেখতে হবে। মহানগরীতে সেরা, কেহ শুধু বেসরকারিতে সেরা, কেহ খালের এই পাড়ে সেরা, কেহ খালের ঐ পাড়ে সেরা । মোটকথা নিজেকে সেরা বলতে হেন কারসাজি তারা বাকি রাখছে না।
ভাষাসৈনিক অজিতগুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের পছন্দের কলেজে ভর্তির সুযোগ বাড়লেও শিক্ষার্থী সংকটে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু আসন কমিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। যেসব কলেজে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই, অবকাঠামোগত সংকট রয়েছে কিংবা শিক্ষার মান সন্তোষজনক নয়, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, যেসকল কলেজগুলো পিছিয়ে আছে, ছাত্র সংখ্যা কম এই কলেজগুলোর বিষয়ে বড় কলেজগুলোতে বেশি আসন বাড়িয়ে নেন। এগুলো থেকে বের হতে চাই। এবার অনেক আসন ফাঁকা থাকবে। তাদের যেন কলেজ চলে সেজন্য আমরা আলোচনা করেছি। যেসব কলেজ আগে বেশি সিট নিয়েছে তা আমরা কমিয়ে আনবো।
তবে বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা থাকায় শিক্ষার্থী সংকটে থাকা কলেজগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। কাগজে-কলমে আসন থাকলেও শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় জায়গা না পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আহসান পারভেজ বলেন, নতুন অনেক কলেজ অনুমোদন পেয়েছে স্বীকৃতি পায়নি। সে হিসেবে আসন ফাঁকার সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিগত সময়ে এ সমস্যা এতটা ফেস করেনি। সরকার যখন একটা প্রতিষ্ঠান শুরু করেন সেখানে শিক্ষকদের একটা অনুপাত থাকে। এবার সে অনুপাতের অনেক নিচে আছে। এবছর যা পরিস্থিতি হচ্ছে তা সরকারের অনেক অর্থের অপচয় হবে মনে হচ্ছে। বড় অনেক কলেজ মাত্রাতিরিক্ত আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি করে। এবছর আমরা বড় কলেজগুলোর আসন কমিয়ে দিতে চাই। যেন ছোট কলেজগুলো টিকে থাকে। প্রতিষ্ঠানকে বাঁচানোর স্বার্থে বড় কলেজগুলোর আসন কমানো ছাড়া বিকল্প নেই। ৫০এর নিচে শিক্ষার্থী আছে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে ৫০এর বেশি।