ফুল বাগানের সৌরভে সুভাস ছড়ায় মেঘনা থানা

মেঘনা প্রতিনিধি।।
প্রকাশ: ১২ মাস আগে

থানার নাম শুনলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে এক অস্থির দৃশ্য—অভিযোগের ভিড়, নথিপত্রের স্তূপ আর তড়িঘড়ি করে ছুটে চলা অফিসারদের ব্যস্ততা। কিন্তু কুমিল্লার মেঘনা থানায় পা রাখলেই সে চিরাচরিত ধারণা মুহূর্তেই বদলে যেতে বাধ্য। বরং প্রথম চোখে পড়ে এক মনোমুগ্ধকর বাগান, যেখানে থমথমে ভাব নয়, বরং আছে সবুজ গাছগাছালির ছায়া, রঙিন ফুলের হাসি আর প্রশান্তিময় পরিবেশ। থানার প্রবেশমুখেই চোখে পড়ে এক দৃষ্টিনন্দন বোগেনভিলিয়া গাছ, যার গোলাপি ফুল যেন প্রাকৃতিক এক জ্যোৎস্না হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে থানার অঙ্গনে। চারপাশে নানা জাতের ফুল ও শোভাময় বৃক্ষ, প্রতিটি গাছ পরিচর্যাপ্রাপ্ত, ছাঁটা এবং পরিচ্ছন্ন—যা দেখে বোঝা যায়, গাছগুলোর যত্নে কোনো কমতি নেই।
এই ব্যতিক্রমী পরিবেশ গড়ে তোলার পেছনে রয়েছে থানার কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টা। থানা চত্বরে কর্মরত অফিসাররাই গাছের যত্ন নেন, পানি দেন এবং প্রয়োজনীয় ছাঁটাই করেন। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “প্রতিদিন থানার পাশ দিয়ে যাই। দেখি, পুলিশের ইউনিফর্ম পরা কর্মকর্তারাই গাছগুলোতে পানি দিচ্ছেন। এমন মানবিক ও পরিবেশবান্ধব চেহারা পুলিশের আগে কখনো দেখিনি।”
মেঘনা থানা যেন এখন আর শুধু একটি প্রশাসনিক ভবন নয়; এটি হয়ে উঠেছে এক খোলা উদ্যানে রূপান্তরিত কর্মক্ষেত্র, যেখানে দায়িত্বের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে প্রকৃতির ছোঁয়া। এ সৌন্দর্য শুধু চোখে নয়, প্রভাব ফেলে মানুষের মনেও। আগত সাধারণ মানুষও এই শোভন পরিবেশে একপ্রকার প্রশান্তি অনুভব করেন।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল আমাদের কুমিল্লাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে গাছপালা আর ফুল খুব ভালোবাসি। চেষ্টা করি থানার প্রতিটি কোণকে যতটা সম্ভব সবুজ রাখতে। আমার বিশ্বাস, একটি শান্ত, সুশোভিত পরিবেশ কর্মদক্ষতা বাড়ায়, মানুষের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই গাছের যত্ন নেওয়া আমাদের রুটিনেরই অংশ হয়ে গেছে।”
ওসি জলিলের নেতৃত্বে থানার অন্যান্য পুলিশ সদস্যরাও গাছপালার পরিচর্যায় অংশ নিচ্ছেন প্রতিদিন। কাজের চাপের মধ্যেও গাছের কাছে গিয়ে কয়েক মিনিট সময় কাটিয়ে নিচ্ছেন তারা, যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝেই খুঁজে নিচ্ছেন মানসিক প্রশান্তি। থানার কর্মীরা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি একটি মানসিকভাবে সুস্থ কর্মপরিবেশ গড়ে তোলা জরুরি, আর এই সবুজ উদ্যোগ সেই প্রচেষ্টারই বাস্তব রূপ।
পরিচ্ছন্নতা, শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্যের অপূর্ব মেলবন্ধনে মেঘনা থানা এখন এক অনন্য উদাহরণ। যেখানে শুধু মামলা-মোকদ্দমার হিসাব রাখা হয় না, রাখা হয় গাছের পানির সময়টাও। সব মিলিয়ে মেঘনা থানা আজ এক ব্যতিক্রমী বার্তা দিচ্ছে—কঠোর আইন প্রয়োগ আর কোমল প্রকৃতিপ্রেম একসঙ্গে চলতে পারে, যদি থাকে সদিচ্ছা ও দায়িত্ববোধ।