ফেনীতে কৃষক কার্ড বিতরণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানী ভাতা প্রদানের কার্যক্রমের সূচনা হতে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় ফেনী জেলায় মোট ৫ হাজার ৬৪৩ জনকে কার্ড দেওয়ার জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ১ হাজার ১২ জন কৃষকের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তাদের মধ্য থেকে ১০ জন কৃষক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি কৃষক কার্ড গ্রহণ করবেন। ফেনী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিকুল্লাহ এ তথ্য জানান।
অন্যদিকে, জেলার বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম, পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানী ভাতা প্রদানের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় ফেনী জেলায় মোট ২৭৫ জনকে সম্মানীর জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফেনীর উপপরিচালক মো. নাজমুস সাকিব জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মনোনীতদের মধ্য থেকে ৬ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম, ২ জন সেবায়েত এবং ২ জন পুরোহিত প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মানী গ্রহণ করবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা কার্যক্রমকে আরও কাঠামোবদ্ধ করার পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের উদ্যোগ সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার একটি নতুন পরিসর তৈরি করবে।
ফেনীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে এসব কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রস্তুতি নিয়েছে। কৃষক কার্ডের দ্বিতীয় ধাপের পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধনও এ সফরের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হবে।
ফুলগাজীর কৃষক জয়নাল আবেদীন জানান, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আমরা যদি সময়মতো কৃষি উপকরণ, সরকারি সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সেবা পাই, তাহলে আমাদের উৎপাদন আরও বাড়বে। কৃষকের পাশে সরকার থাকলে আমরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারব। এই কর্মসূচির সূচনা আমাদের জন্য আশার নতুন বার্তা।
ফুলগাজী আকমত আলী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা তাজুল ইসলাম বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের উদ্যোগটি আমাদের জন্য সম্মানের। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব পালন করে আসছি। এই সম্মানী আমাদের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করবে এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করবে।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব বলেন, একই অনুষ্ঠানে কৃষক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সরকারি উদ্যোগের সূচনা হওয়া নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কৃষক দেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি, আর ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ ধর্মীয় ব্যক্তিরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। আমরা চাই এসব উদ্যোগ বাস্তবে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখুক।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ফেনী জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মোরশেদ হোসেন বলেন, কৃষক কার্ড ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী ভাতা-দুটি উদ্যোগই সমাজের ভিন্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এসব কর্মসূচির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে স্বচ্ছতা, সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং নিয়মিত বাস্তবায়নের ওপর। ফেনী থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ফেনী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।