বিএনপি না জামায়াত, কোন জোটে যাবে দলটি- লাভ-ক্ষতির হিসেব মিলাচ্ছে এনসিপি

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

নির্বাচনী জোটের হিসাবনিকাশ নিয়ে নির্বাহী কাউন্সিলের সভায় আলোচনা হওয়ার বিষয়টি এনসিপির একাধিক সূত্র প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছে। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সভা হয়। এনসিপির নির্বাহী কাউন্সিলের সদস্য এখন ৫১ জন। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ বেশির ভাগ নেতা শুক্রবারের সভায় অংশ নেন।

সভায় অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো। তাঁরা বলেছেন, বিএনপি ও জামায়াত—দুই দলই আগামী নির্বাচনে এনসিপিকে সঙ্গে রাখতে চায়। বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে কোনো নির্বাচনী জোট বা সমঝোতায় গেলে লাভ–ক্ষতি কী হতে পারে, তা নিয়ে নেতারা মতামত দিয়েছেন। বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে তৃতীয় কোনো জোটে যাওয়া নিয়েও সভায় কথা হয়েছে।

‘নির্বাহী কাউন্সিলের সভায় নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমে মনোযোগ দেওয়ার কথা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করবে এনসিপি

সভায় অংশ নেওয়া এনসিপির মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাহী কাউন্সিলের সভায় নির্বাচনকেন্দ্রিক তৎপরতার পাশাপাশি সাংগঠনিক কার্যক্রমে মনোযোগ দেওয়ার কথা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করবে এনসিপি।’

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জাতীয় সমন্বয় সভা করে এনসিপি। সেই সভায় সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েই বেশি আলোচনা হয়। তখন ঢাকার বাইরে থেকে আসা নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, অক্টোবর মাসের মধ্যে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত দলের আহ্বায়ক কমিটি করতে হবে।

গণতন্ত্র মঞ্চের ছয় দল হলো গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও ভাসানী জনশক্তি পার্টি। এই দলগুলো আওয়ামী লীগ (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কার্যত বিপরীতমুখী অবস্থানের মধ্যে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর গণতন্ত্র মঞ্চের ছয়টি দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এনসিপি, এবি পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতারা। ৯ দলের এই উদ্যোগ নির্বাচনী জোট বা সমঝোতায় গড়াতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।

গণতন্ত্র মঞ্চের ছয় দল হলো গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও ভাসানী জনশক্তি পার্টি। এই দলগুলো আওয়ামী লীগ (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল। আসন ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিএনপি সম্প্রতি গণতন্ত্র মঞ্চের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা চেয়েছে।

গণতন্ত্র মঞ্চের সঙ্গে এনসিপির জোট বা সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আছে। গত ৯ অক্টোবর জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের সঙ্গে এনসিপি, এবি পার্টি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাদের বৈঠক হয়। এই বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতির পাশাপাশি সম্ভাব্য নির্বাচনী জোট নিয়েও কথা হয়।

কারও সঙ্গে নির্বাচনী জোট বা সমঝোতার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সামনে আরও আলোচনা হবে।