ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মধ্যরাতে মাদরাসাছাত্রদের লাঠিচার্জ, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ।।
প্রকাশ: ২০ ঘন্টা আগে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে মধ্যরাতে উচ্চৈঃস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে মাদরাসাছাত্রদের লাঠিচার্জের ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে (প্রশাসন ও অর্থ) প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে জেলা পুলিশের মিডিয়া উইং থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, পুলিশ লাইন্সে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সংঘটিত হওয়ার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে পুলিশ লাইন্স গেটে এবং কম্পাউন্ড ডিউটিতে বিচ্যুতির অভিযোগে তিনজন পুলিশ সদস্যকে সব ধরণের দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারপূর্বক লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, এর প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তাধীন বিষয়ে অনুমাননির্ভর বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

তবে পুলিশের পাঠানো ওই বিবৃতিতে প্রত্যাহার হওয়া তিন পুলিশ সদস্যের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আগমন উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাতে পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা পুলিশ। তবে ডিআইজি অনুষ্ঠান উপভোগ করে চলে যাওয়ার পরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি চলছিল। অনুষ্ঠানে উচ্চৈঃস্বরে গান বাজানো নিয়ে পার্শ্ববর্তী জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সে গিয়ে গানের উচ্চস্বর কমাতে বলে। এ নিয়ে দুই পক্ষের তর্কবিতর্ক শুরু হয়। পরে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সের ভিতরে প্রবেশ করলে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এই ঘটনায় অন্তত ২০জন শিক্ষার্থী আহত হয়।

জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বুধবার তাদের পরীক্ষা ছিল। উচ্চৈঃস্বরে গান বাজানোর কারণে পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছিল। প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করলে তা কমানো হয়। পরে আবারও উচ্চৈঃস্বরে গান বাজানো শুরু হলে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করে।

এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। পরে রাত দুইটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ। বৈঠকে জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে পুলিশ লাইন্সে গান-বাজনার অনুষ্ঠান আয়োজন না করা, আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।