কমিশনের কার্যাবলির বিষয়ে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পুলিশপ্রধান হিসাবে নিয়োগের জন্য অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার তিনজন কর্মকর্তার একটি প্যানেল সরকারের কাছে পাঠাবে কমিশন। সেখান থেকেই একজনের নিয়োগ চূড়ান্ত করবে সরকার। পুলিশপ্রধানসহ অন্য কর্মকর্তাদের বদলির সুপারিশ করতে পারবে জাতীয় পুলিশ কমিশন। পাশাপাশি পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কার্যক্রম তদারকি করবে কমিশন। প্রতিবছর আগস্ট মাসের মধ্যে প্রত্যেক পুলিশ ইউনিট থেকে তাদের কার্যক্রম উল্লেখ করে একটি সাধারণ প্রতিবেদন কমিশনে পাঠাতে হবে। কমিশনের পক্ষ থেকেও বার্ষিক প্রতিবেদন সরকার এবং সংসদের কাছে পেশ করা হবে। পুলিশের দায়িত্বের বিষয়ে বলা হয়েছে, জনগণকে যথাযথ সম্মান দিতে হবে। তাদের সঙ্গে সৌজন্যতা দেখাতে হবে। দরিদ্র, অক্ষম, দুর্বল ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তাবোধ এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশি ব্যবস্থায় জনগণের অংশগ্রহণ উৎসাহিত করতে হবে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পুলিশ সদস্যের আচরণের মানোন্নয়নের জন্য পুলিশপ্রধান ‘আচরণবিধি’ জারি করবেন। পুলিশ সদস্যদের অপরাধের বিচারের জন্য পুলিশ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সংস্কার প্রস্তাবে। বলা হয়েছে, সিনিয়র র্যাংকের পুলিশ সদস্যদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রধান থাকবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার কর্মকর্তা। আর জুনিয়র র্যাংকের কর্মকর্তাদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রধান হবেন পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তারা। এএসপি থেকে আইজিপি পর্যন্ত পদমর্যাদার কর্মকর্তারা সিনিয়র র্যাংক এবং কনস্টেবল থেকে পরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা জুনিয়র র্যাংক হিসাবে বিবেচিত হবেন। জাতীয় প্রশিক্ষণনীতির আলোকে সব র্যাংক ও পদের পুলিশ সদস্যের জন্য একটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ নীতি প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে প্রস্তাবে। আরও বলা হয়েছে-পুলিশপ্রধান, ইউনিটপ্রধান ও জেলা পুলিশপ্রধান তাদের অধিক্ষেত্রে নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, পদায়ন, বদলি, পদোন্নতি, অস্ত্রশস্ত্র, ব্যায়াম, শৃঙ্খলা, পোশাক-পরিচ্ছদ, কর্মবণ্টন, নিয়ন্ত্রণাধীন পুলিশ সদস্যদের কর্তব্য সম্পাদনসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ন্ত্রণ করবেন। পুলিশের জন্য একটি গবেষণা ব্যুরো তৈরির কথাও বলা হয়েছে।
জানতে চাইলে পুলিশ সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান সফর রাজ হোসেন শুক্রবার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, পুলিশে সংস্কারের জন্য কেবল কমিশনের প্রধান হিসাবে আমার নিয়োগ হয়েছে। এখনো অন্য সদস্যদের নাম চূড়ান্ত হয়নি। সবচেয়ে বড় বিষয়, এখনো কমিশনের টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনগুলো পাইনি। কত সদস্যবিশিষ্ট কমিশন হবে সেটাও ঠিক হয়নি। আশা করছি দ্রুতই এগুলো হয়ে যাবে। ১ অক্টোবর থেকে কমিশনের অফিসিয়াল কার্যক্রম শুরু হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনই বিস্তারিত কিছু বলার সুযোগ নেই।