কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ইউসুফনগর গ্রাম থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় গলা কাটা এক তরুণীর মৃত দেহ উদ্ধার করেছেন মুরাদনগর থানা পুলিশ। শুক্রবার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত্রের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন তাঁরা। নিহত রাবেয়া (১৫) ইউসুফনগর গ্রামের প্রবাসী এরশাদ মিয়ার স্ত্রী আমেনার (৩৫) আগের সংসারের মেয়ে।
আমেনা বেগম জানান, আমরা এক সাথেই ঘুমাই। রাতে ঘুম থেকে উঠে দেখি মেয়ে পাশে নেই। বাথরুমে গেছে মনে করে বাহির হই । বাথরুমে না পেয়ে টর্চ লাইট নিয়ে মেয়েকে খুঁজতে বের হই। পাশের আলগা ঘরের দিকে উঁকি দিয়ে দেখি পা-দুটি বাহিরে পড়ে আছে। মুখটা ঢাকা। মুখের ভীতর কাপড় ঢুকানো। কাপড় টানতে গলাকাটা রক্তাত্ব দেহ বেরিয়ে আসে। এসময় আমার মেয়ের পড়নে কোন কাপড় ছিলোনা ”। একথা বলেই আমেনা বেগম কান্না করতে করতে সন্তান হারানোর বেদনায় মুর্ছাযান।
বর্বরোচিত এই হত্যাকান্ড কে বা কারা ঘটিছে তা জানা না গেলেও হত্যাকান্ডের রাতের গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য পাওয়া গেছে মেয়ের মোবাইলে। বৃহষ্পতিবার রাত প্রায় সাড়ে ১১ টায় মেসেজ আসে- মশায় কামড়াচ্ছে। মেয়েটির রিপ্লাই ছিলো – আর ১৫ মিনিট।
খুদে এই বার্তায় লুকিয়ে থাকতে পারে চাঞ্চল্যকর এই হত্যার রহস্য-এমনটাই ধারনা এলাকার সচেতন মহলের।
স্থানীয়রা জানান, মেয়েটির কোন শত্রু থাকতে পারে এটা আমাদের ধারনার বাহিরে। কেননা সে কোন স্কুল -কলেজে পড়ত না । এছাড়া দেখতে তেমন সুন্দরীও ছিলোনা। এলাকায় কোন আচার অনুষ্ঠানে মেয়েটিকে নিয়ে তার ‘মা’ মাঝে-সাজে থালা বাসন মাজনের কাজ করত। সাদা-সিদে মেয়েটিকে এতোটা নিষ্ঠুরভাবে যারা হত্যা করেছে আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।
এবিষয়ে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রভাষ চন্দ ধর বলেন, হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জবাইকৃত তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। সুরাত হাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্ত্রের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে প্রেমঘটিত কোন বিষয় এ-হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকতে পারে। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।