রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারালেন চান্দিনার সাগর

চান্দিনা প্রতিনিধি।।
প্রকাশ: ৭ ঘন্টা আগে

নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তান সাগর। পরিবারের অভাব অনটনের মধ্যেই বেড়ে উঠায় লেখাপড়ায় প্রাথমিকের গণ্ডি পার হতে পারেনি। কিশোর বয়স থেকেই রিক্সা-ভ্যান চালিয়ে পরিবারের আর্থিক জোগান দিতো।

উপজেলা সদরের একটি রড-সিমেন্টের দোকানে নিয়মিত ভ্যান চালানোর সুবাদে ওই দোকানের ম্যানেজারের সাথে সুসম্পর্ক হয় তার। ম্যানেজার চাকুরী ছেড়ে বিদেশ চলে গেলেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়নি।

কয়েক বছর পর ওই ম্যানেজার বিদেশ থেকে দেশে ফিরে আবারও চাকুরী নেয় ওই রড-সিমেন্ট দোকানে। বন্ধুত্বের সুবাদে সাগর ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে বিধায় তাকে বিদেশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় ওই দোকান ম্যানেজার। যে কথা সেই কাজ। ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে ওই দোকান ম্যানেজারের সহযোগিতায় মাত্র ৬ লাখ টাকায় রাশিয়া পাড়ি জমান সাগর।

সেখানে গিয়ে একটি বেকারী দোকানে কাজ নেয় সে। বেতনও পাচ্ছিল প্রায় ৭০ হাজার টাকা। রাশিয়ায় কাজ করা অবস্থায় পরিচয় ঘটে এক বাংলাদেশী দালালের সাথে। ওই দালাল তাকে রাশিয়ান সেনা বাহিনীতে চাকুরীতে নিযুক্ত করে দিবে এবং এক কালিন ৩০ লাখ টাকা দেয়ার প্রলোভন দেখালে চলতি বছরের মে মাসে ওই বেকারী দোকানের চাকুরী ছেড়ে দালালের ফাঁদে পা দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে চলে যান ২৪ বছর বয়সী সাগর। তারপর বন্ধ হয়ে যায় পরিবারের সাথে যোগাযোগ।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাশিয়া থেকে সাগর এর এক বন্ধু তার বোনের মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ পাঠান, ‘সাগর আর নেই’! এমন খবর পাওয়ার সাথে সাথে মুর্ছা গেছেন মা। পরিবারে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।

মো. সাগর কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পৌরসভার ছায়কোট এলাকার মো. কবির হোসেন এর ছেলে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সাগর ছোট।

সাগর এর চাচা আব্দুল আওয়াল জানান- সাগর যখন রাশিয়ার বেকারীতে চাকুরী ছেড়ে রাশিয়ান সেনা বাহিনীতে চাকুরীর কথা আমাকে জানায় তখন আমি তাকে বারণ করে ছিলাম। কারণ সাগর লেখাপড়াই জানে না। সে বিদেশে সেনাবাহিনীতে চাকুরী করবে কিভাবে? ওই দেশের দালাল তাকে ভুল তথ্য দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যুক্ত করেছে। সাগর যুদ্ধে যাওয়ার আগে আমার একাউন্টে তিন লাখ টাকাও পাঠায়। তারপর আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। শনিবার তার বন্ধু ম্যাসেজ করেছে সাগর মারা গেছে। রাতে বিস্তারিত বলবে বলেছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাত ৯টা পর্যন্ত ফোন করেনি, আমরাও তাকে ফোনের নেটওয়ার্কে পাচ্ছি না।

সাগর এর বাবা কবির হোসেন বলেন- ‘সবজির ব্যবসা করেছি। দীর্ঘদিন নানা রোগে অসুস্থ। অনেক ধার-দেনা করে তাকে বিদেশ পাঠিয়েছি। প্রায় ৪-৫ মাস যাবৎ ছেলেটার সাথে কথাও বলতে পারি নাই। এখন শুনি আমার ছেলে আর নাই’। এই বলেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন কবির হোসেন।

এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আশরাফুল হক জানান- বিষয়টি আমাদের জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবো।