চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় বিষধর রাসেলস ভাইপারের দংশনের শিকার পাঁচ বছরের মেয়েকে এক হাতে এবং দংশনকারী সাপটিকে প্লাস্টিকের বোতলে আটকে অন্য হাতে নিয়ে হাসপাতালে হাজির হয়েছেন এক বাবা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। কুসংস্কারের আশ্রয় না নিয়ে কালবিলম্ব ছাড়া দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসায় চিকিৎসকদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় শিশুটির জীবন রক্ষা পেয়েছে।
আক্রান্ত শিশুর নাম মরিয়ম। সে উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল হিসেবে পরিচিত নীলকমল ইউনিয়নের শেখকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মনির হোসেনের ছোট মেয়ে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে খেলাধুলা শেষে ঘরে ফেরার সময় একটি রাসেলস ভাইপারের বাচ্চা মরিয়মের পায়ে দংশন করে। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে আসেন। এ সময় বাবা মনির হোসেন কালক্ষেপণ না করে রাস্তার পাশের ঝোপঝাড় খুঁজে সাপটিকে ধরে একটি বোতলে বন্দি করেন। পরবর্তীতে শনাক্তকরণ ও সঠিক চিকিৎসার সুবিধার্থে এক হাতে আক্রান্ত শিশু ও অন্য হাতে বোতলবন্দি বিষধর সাপটি নিয়ে প্রথমে হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে জেলা সদরের চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পরপরই জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা কালবিলম্ব না করে মরিয়মকে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম প্রয়োগসহ নিবিড় চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করেন।চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এনামুল হক বলেন, ‘সাপে কাটার পর ওঝার কাছে গিয়ে সময় নষ্ট না করে সরাসরি হাসপাতালে নিয়ে আসায় শিশুটিকে দ্রুত অ্যান্টিভেনম দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সময়মতো চিকিৎসার কারণে তার প্রাণরক্ষা করা গেছে।’ বর্তমানে শিশু মরিয়ম আশঙ্কামুক্ত হলেও তাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।