দীর্ঘ প্রায় চার থেকে পাঁচ বছর ধরে জলাবদ্ধতার কারণে চরম দুর্ভোগের মধ্যে ছিল কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠ পানিতে তলিয়ে যেত, সৃষ্টি হতো স্থায়ী জলাবদ্ধতা। ফলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য বিদ্যালয়ে যাতায়াত হয়ে উঠেছিল কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আবদুল হালিম মজুমদারের উদ্যোগে অবশেষে সেই দুর্ভোগের অবসান হয়েছে। মাঠ ভরাট ও অবকাঠামোগত কিছু উন্নয়ন কাজের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি ফিরে পেয়েছে নতুন রূপ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছরের পর বছর বিদ্যালয়ের মাঠে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করত। মাঠজুড়ে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে অনীহা প্রকাশ করত। শিক্ষকদেরও কষ্ট করে পানি ঠেলে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে হতো। এর ফলে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেত।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে সমস্যাটি বিদ্যমান থাকলেও বিভিন্ন সময়ে সরকার পরিবর্তন হয়েছে, দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনিকভাবেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। ফলে জলাবদ্ধতার অভিশাপ নিয়েই চলছিল বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
অবশেষে প্রায় এক মাস আগে বিদ্যালয়ের এই দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসেন এলাকার কৃতী সন্তান, শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আবদুল হালিম মজুমদার। তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাট করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের বারান্দার দেয়াল ইট দিয়ে উঁচু করে দেওয়া হয়, যাতে বৃষ্টির পানি সহজে বিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করতে না পারে এবং জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
শুধু জলাবদ্ধতা নিরসনই নয়, বিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নেও ব্যক্তিগতভাবে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করেছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগে বিদ্যালয়ের পরিবেশ এখন অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব হয়ে উঠেছে। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও দুর্ভোগের পরিবর্তে এখন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিরাজ করছে স্বস্তির আবহ।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাঠে পানি না থাকায় শিক্ষার্থীরা এখন নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও আগের তুলনায় বেড়েছে। পাশাপাশি খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও তৈরি হয়েছে অনুকূল পরিবেশ। এতে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয়রা আবদুল হালিম মজুমদারের এ উদ্যোগকে শিক্ষাবান্ধব ও মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, একটি বিদ্যালয়ের উন্নয়ন মানে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানকে উন্নত করা নয়, বরং একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে সুন্দর করার পথ তৈরি করা। দীর্ঘদিনের একটি সমস্যা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সমাধান হওয়ায় এলাকাবাসী তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিদ্যালয়ের এই উন্নয়ন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয়ভাবে আরও ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টিকে ঘিরে এখন অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তৈরি হয়েছে নতুন আশার আলো।