ঘটনা দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ডিলার ও সাধারণ মানুষ কার্যালয়ে জড়ো হন। পরে উত্তেজিত জনতার ধাওয়া খেয়ে
অভিযুক্তরা হলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাতক্ষীরার সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব নাজমুল হোসেন রনি, জুলাই আহত নাহিদ ইসলাম, আবু হাসান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেবহাটার বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মুজাহিদুল ইসলান।
অভিযুক্ত নাজমুল হোসেন রনি বলেন, আমার মামাতো ভাইয়ের দূরসম্পর্কের এক ভাই ডিলারশিপ পেতে উপজেলা ফুড অফিসারকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দেন। ঘুষ দেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজও তার কাছে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও দাবি করা নাজমুল হোসেন রনির ওই ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে ভিডিওতে এক ব্যক্তি দেবহাটা উপজেলা ফুড অফিসারকে কিছু টাকা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন। তবে তিনি টাকা নেননি। একপর্যায়ে তিনি অপর এক ব্যক্তিকে টাকা দিতে বলেন।
খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অফিস সহকারী নুরুল ইসলাম বলেন, কয়েকজন যুবক এসে অফিসার কখন আসবেন জানতে চান। আমি বলি তিনি আসতে দেরি করবেন। তখন তারা উত্তেজিত হয়ে অফিসার না এলে তালা ঝুলিয়ে দেবেন বলে হুমকি দেন।
স্থানীয় খাদ্যবান্ধব ডিলার ফয়জুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, আব্দুর রহমান, মিজানুর রহমান, শেখ মাখছুদুর রহমান ও আব্দুল আলিম মিঠু বলেন, ‘আমরা শুনেছি কয়েকদিন ধরে কিছু যুবক সমন্বয়ক পরিচয়ে অফিসে এসে ঝামেলা করছে। আজ তারা তালা দিতে আসার খবর পেয়ে আমরা ছুটে যাই। তবে ততক্ষণে তারা পালিয়ে যায়।’
এসময় উপস্থিত সাধারণ মানুষও সমন্বয়ক পরিচয়দানকারীদের খুঁজতে থাকে। তবে জনতার উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত সরে পড়ে।
দেবহাটা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শাহিনা খাতুন বলেন, ‘কয়েকজন যুবক আমাকে ফাঁসিয়ে জরিমানার নামে ২০ হাজার টাকা দাবি করেছে। ঘটনার সময় আমি অফিসের কাজে বাইরে ছিলাম। পরে জানতে পারি তারা আমার অফিসে টাকা নিতে এসে হুমকি দিয়েছে। এরপর কী ঘটেছে তা আমি জানি না।’
জুলাই আহত নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সাতক্ষীরা মেডিকেলের দুর্নীতিবাজ অফিসার মুরাদের অনৈতিক কাজের কিছু ফুটেজ সহযোদ্ধা রনি কিছুদিন আগে প্রকাশ করে। এই সূত্র ধরেই মুরাদের নেতৃত্বাধীন জিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী সাতক্ষীরা থেকে দেবহাটা যাওয়ার পথে সখিপুর মোড়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়।’
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। তবে আজকের এই ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। খোঁজখবর নেবো।