সাবেক সেনাসদস্য হাফিজুরের জামিন স্থগিত, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

তনু হত্যা মামলা:
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ ঘন্টা আগে

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার আসামি অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানের হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ২ আগস্ট হাইকোর্ট হাফিজুর রহমানকে ছয় মাসের অন্তর্র্বতীকালীন জামিন দেন। ওই জামিনাদেশের পর ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় তিনি কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে হাইকোর্টের জামিনাদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করলে বিষয়টি চেম্বার আদালতের সম্পূরক কার্যতালিকায় ওঠে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বিশেষ অনুমতি নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে আবেদনটি উপস্থাপন করেন।
পরে অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের জানান, চেম্বার আদালত হাইকোর্টের দেওয়া জামিনাদেশ স্থগিত করেছেন এবং হাফিজুর রহমানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করেছেন আদালত।
হাফিজুর রহমান গত ২৫ এপ্রিল থেকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০১৬ সালে তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন কুমিল্লার আদালতে হাজির করার আগে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে তার ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। পরদিন তার বাবা, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের তৎকালীন অফিস সহায়ক (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।