তরুণ ক্রিকেটার হিসেবে ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০১৩ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিলেন বিরাট কোহলি। অভিজ্ঞ ও পরিপূর্ণ তারকা হিসেবে জয় করেছেন ২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। বলা যায়, ক্যারিয়ারের ষোলকলাই পূর্ণ করেছেন কোহলি।
তবে এখনও জয়ের ক্ষুধা তাড়িয়ে বেড়ায় কোহলিকে। ভারতের নীল জার্সিতে আরও শিরোপা জিততে চান তিনি। বারবার ডানহাতি সুপারস্টারের অবসরের বিষয়টি উঠে আসলেও সেদিকে কর্ণপাত করছেন না কোহলি। বয়স ৩৬ হলেও এটি তার কাছে স্রেফ সংখ্যা মাত্র। কোহলির অনুভূতিতে এখনও তারুণ্যের আনাগোনা।
২০২৪ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে এ ফরম্যাট থেকে অবসর ঘোষণা করেন কোহলি। তবে এখনও ভারতীয় দলের ওয়ানডে ও টেস্ট দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার হিসেবে অবদান রেখেই চলেছেন তিনি। ২০২৭ বিশ্বকাপেও দেশমাতৃকার জন্য লড়াই করতে চান এ তারকা।
আরসিবি ইনোভেশন ল্যাব ইন্ডিয়ান স্পোর্টস সামিটে পরবর্তী লক্ষ্য সম্পর্কে কোহলি বলেন, ‘আমি জানি না। তবে সেটা হতে পারে ২০২৭ বিশ্বকাপ জেতা।’
গত এক দশকে নিজের ফিটনেসকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন কোহলি। বিশ্বের অন্যতম ফিট ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত হয়েছেন। জাতীয় দলকে উড়াড় করে দিতে এখনও পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি।
কোহলি বলেন, ‘৩৬ বছর বয়সে এক সপ্তাহের বিশ্রাম বেশ ভালো লাগে। আমার পক্ষে এতটা পরিশ্রম করা অনেক কষ্টকর হয়ে ওঠে। এই মুহূর্তে আমি বেশ খুশি। আমি এখনো খেলাটা উপভোগ করি। আমি নার্ভাস নই। কোনো ঘোষণা দিচ্ছি না। আপাতত সব ঠিক আছে।
‘এটি শুধু স্বীকার করে নেওয়ার বিষয় যে, ঠিক আছে, যা হয়েছে তা মেনে নিই। আমি নিজের সঙ্গে সৎ থাকব। আমি কোথায় যেতে চাই? আমার শক্তি কেমন? আমি ৪৮ বা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। আমি পরিবারকে সময় দিতে চাই। সবকিছু স্বাভাবিক হতে দেই, তারপর কয়েক দিন পর দেখি কেমন অনুভব করি। পাঁচ দিনের মধ্যে আমি জিমে যাওয়ার জন্য বেকুল হয়ে পড়েছিলাম। তখন মনে হলো, ঠিক আছে, সবকিছু ভালোই আছে।’
২০২৭ বিশ্বকাপে কোহলির বয়স ৩৮ বছর হবে। তবে ফিটনেস এবং জয়ের ক্ষুধা তাকে ভারতের পরিকল্পনায় রাখবে। কোচ গৌতম গম্ভীর কোহলি ও রোহিত শর্মাকে বিশ্বকাপে রাখার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। রোহিত ৩৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ খেলতে গেলে ফর্ম ধরে রাখা তার জন্য কঠিন হতে পারে, তবে টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার ফলে কোহলির ওয়ার্কলোড কমবে, যা তাকে দীর্ঘ ক্যারিয়ার গড়তে সহায়তা করতে পারে।