আ’লীগ নেতারা লক্ষ লক্ষ টাকায় গোমতী চরের জমি বিক্রি করে উধাও!

সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ।।
প্রকাশ: ২ years ago

কুমিল্লার গোমতী নদীর চর স্টাম্পের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করে লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করে আওয়ামীলীগ নেতারা এখন উধাও। এসব চর যারা কিনেছে তারা এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। তাদেরকে বিভিন্ন স্টাম্পে সইয়ের মাধ্যমে চর গুলো বিক্রি করেছে ওইসব নেতারা। কিছুদিন পুর্বে ভয়বহ বন্যায় এসব ঘর পানিতে ডুবে যায়। গোমতী চরের বাসিন্দারা অধিকাংশ দিনমজুরি। তারা অসহায়ত্ব হয়ে এসব জায়গায় ঘর নির্মাণ করেছে। এর বিনিময় স্টাম্পের মাধ্যমে শতকে ১ থেকে দেড় লাখ টাকা দিতে হয়েছে। এতে আওয়ামীলীগের প্রভাবশালীরা লাভবান হলেও জমি কিনে বসতি শুরু করা মানুষগুলো রয়েছেন অনিশ্চয়তায়। সরকার চাইলে ওইসব জমি ছেড়ে চলে যেতে হবে তাদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লার আলেখারচর আমতলী ব্রিজ থেকে টিক্কারচর ব্রিজ ও পর্যন্ত নদীর দুই পাশে প্রায় ৭’শত কাঁচা-পাকা বাড়ি রয়েছে। বাঁধের ওপরের জায়গা দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। বাড়ি নির্মাণের সঙ্গে চর ভরাট করে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসাও করছেন তারা।নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণের সময় সরকার যাদের কাছ থেকে সম্পত্তি কিনেছিল তারা সরকারের কাছে সম্পত্তি বিক্রি করলেও দখলে ছিলেন। বর্তমানে ওই দখলদাররা চরের প্রতি শতক জমি ১ লাখ থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করছেন। যারা এসব চর যারা বিক্রি করেছেন তারা অধিকাংশই ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহারের অনুসারী। আ’লীগ সরকারের পতনের পর তারা এখন উধাও।
কুলছুম নামে চরের এক বাসিন্দা জানান, ৪/৫ বছর আগে চাঁনপুর এলাকার আবদুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি থেকে প্রতি শতক দেড় লাখ টাকা দরে কয়েক শতক জমি কিনেছিলেন। রোজিনাসহ আরও ১০ পরিবারের কাছে রাজ্জাক মিয়া স্ট্যাম্পের মাধ্যমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করেছেন। রোজিনা নামের আরেক বাসিন্দা জানান, টাকা নেওয়ার সময় স্ট্যাম্পে রাজ্জাক স্বাক্ষর করে। এ স্বাক্ষর লিপিতো লেখা আছে, এই সম্পত্তি কেউ দাবি করতে আসবে না। তবে সরকার যখন চাইবে তখন এই সম্পত্তি রেখে চলে যেতে হবে।
মফিজুল ইসলাম নামে একজন বলেন, আমার দাদার কাছ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড আইয়ুব খানের আমলে জায়গাটি নিয়ে নেয়। এ জমিতে দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছি। সরকার চাইলে আমরা আর চাষাবাদ করবোনা। হঠাৎ এ জায়গা জাহাঙ্গীর আলম নামের এক লোক এ ভূমিটি দখল করার জন্য বাঁশ দিয়ে বেড়া দিয়েছে। এসব দখলকারী জুলুমের হাত থেকে গোমতীবাসী মুক্তি চায়।
পাঁচথুবী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের জয়েন্ট সেক্রেটারি আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমি দলের প্রভাব খাটিয়ে জায়গা বিক্রি করিনি। দখল সূত্রে সবাই যেমন করে বিক্রি করেছে, সেভাবে আমিও করেছি। সবাই অন্যায় করলে আমিও অন্যায় করেছি।
সুমন নামের আরেক ব্যাক্তি মুঠোফোনে বলেন, মোবাইলে এত কথা বলতে পারব না। দখলে আছিলাম তাই বিক্রি করছি। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের আরিফুল ইসলাম বলেন, যারা গোমতী নদীর পাড়ে বসবাস করেছে তাদের অনেকের ঘর নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তাদের ঘর নির্মাণের জন্য সহায়তা করতে চাইলেও পারছিনা। কারন এসব জায়গার মালিকানাতো তারা নয়। এসবের মালিকানা সরকার। তাই তাদের কোথাও যদি পূনর্বাসন করা হয় আমরা সহযোগিতা করব।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ বলেন, এ জায়গার মালিকতো পানি উন্নয়ন বোর্ড। যারা এখানে বসবাস করছে তাদের যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে গোমতীর দুই পাড়ে ব্লকের ব্যবস্থা করতো তাহলে গোমতীর বাঁধ ঝুঁকিমুক্ত হবে।
কুমিল্লা পানি উন্নয় বোর্ডের খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামান গোমতী নদীর বাঁধ দখলের বিষয়ে বলেন, মন্ত্রনালয় থেকে অর্ডার সিট বা বাজেট আসলে গোমতী নদীর বাঁধের ভেতরে দখল হওয়া সম্পত্তি উচ্ছেদের জন্য আমরা কাজ করব। যারা দখল করে বিক্রি করে, এসব হলো ফৌজদারি অপরাধ। তাদের বিষয়ে পুলিশের কাছে বলা হয়েছে যাতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।