চৌদ্দগ্রামে গৃহবধূকে বেঁধে মারধর করল ছাত্রলীগ নেতা, সালিশে ‘তালাকের’ পর যুবদল নেতার সঙ্গে বিয়ে ভিডিও ভাইরাল

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে গৃহবধূকে হাত বেঁধে মারধর করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য ও স্থানীয় যুবলীগ নেতা । নির্যাতনের পরদিন ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে স্থানীয়ভাবে সালিশ বসে। সেখানে স্বামীর সঙ্গে ওই গৃহবধূর ‘বিবাহবিচ্ছেদ’ ঘটানো হয় এবং স্থানীয় যবুদল নেতার সঙ্গে তার বিয়ে দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার নির্যাতন ও শুক্রবার সালিশের মাধ্যমে তালাকের পর বিয়ের ঘটনা ঘটে। তবে মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নির্যাতনকারী ইউপি সদস্য বজলুর রহমান স্থানীয় শ্রীপুর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সহ সভাপতি।

অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে আটক বিল্লাল হোসেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি। গৃহবধূকে নির্যাতন করা ব্যক্তি হলেন শ্রীপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. বজলুর রহমান। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ ইউপি সদস্যের ভাতিজার স্ত্রী। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর স্বামী প্রবাসী।

ভাইরাল হওয়ার ২ মিনিট ৫৫ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, ইউপি সদস্য বজলুর রহমান ওই নারীকে লাঠি দিয়ে মারধর করছেন। এ সময় ওই নারী ‘মা, মা’ বলে চিৎকার করছেন। এ সময় পাশেই বসে ছিলেন যুবদল নেতা বিল্লাল হোসেন। পর দিন স্থানীয়রা তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য বজলুর রহমান বলেন, ‘ওই গৃহবধূ আমার ভাতিজার স্ত্রী। পার্শ্ববর্তী তারা পুষ্করুণী গ্রামের বিল্লাল মিয়ার সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ১৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে স্থানীয়রা তাদেরকে হাতেনাতে আটক করে আমাকে খবর দেন। আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই নারীকে কয়েকটি আঘাত করি। পর দিন ১৭ অক্টোবর শুক্রবার সালিশের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা কাবিনে তাদের বিয়ে দেওয়া হয়।’

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিল্লাল বিবাহিত, তার সংসারে স্ত্রী ও চারটি মেয়ে রয়েছে। এছাড়াও নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূ দুই সন্তানের জননী।

বিল্লাল হোসেনের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বুধবার বলেন, ‘ঘটনাটি গত বৃহস্পতিবারের। তবে মঙ্গলবার রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ওই ইউপি সদস্যের বাড়িতে পুলিশ পাঠাই। কিন্তু ততক্ষণে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান ওই ইউপি সদস্য। আমরা জানতে পেরেছি, ওই নারীর স্বামী প্রবাসী। এ ঘটনার পরেই পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ের ব্যবস্থা করে তাদের পরিবার। ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এ নতুন দম্পতি অজ্ঞাতস্থানে চলে গেছে। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি ‘