গণভোট প্রশ্নে কি ভাবছেন কুমিল্লার রাজনৈতিক নেতারা ?

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

হঠাৎ করে দেশের রাজনীতির আলোচনার মোড় ঘুরে গেছে। যেখানে আলোচনায় থাকার কথা ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন । সেখানে এখন দেশজুড়ে আলোচনার তুঙ্গে “গণভোট”। গণভোটের পক্ষে বিপক্ষে উত্তাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যম। নির্বাচনের আগে গণভোট হওয়া উচিত কি না এই প্রশ্নে গোটা দেশ আজ তোলপাড়। এই প্রশ্নে কি ভাবছেন কুমিল্লার বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা ? তাদের ভাবনা গুলো নিয়েই আজকের প্রতিবেদন তৈরী করেছেন আমাদের স্টাফ রিপোর্টার সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ।
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট হওয়া অত্যন্ত জরুরি- কাজী দ্বীন মোহাম্মদ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট হওয়া অত্যন্ত জরুরি। এটা শুধু আমাদের নয়, আমাদের আমিরেরও একই বক্তব্য। জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্বীকৃতি দেওয়া গণভোটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গণভোট সম্পর্কে আমরা অজ্ঞ নই। গণভোট নতুন কোনো বিষয় নয়, এই দেশে আগেও হয়েছে। দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে বিএনপিকেও গণভোটের পক্ষে আসা উচিত। সবাই মিলে জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে হবে।
এই মুহুর্তে দেশের মানুষও গণভোট চায় না – ভিপি ওয়াসিম
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেন, গণভোট চায় না আমাদের দল, চায় না দেশের জনগণও। যে সংস্কারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই জাতীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাক্ষর করেছে, এখন যদি তা পরিবর্তন করা হয়, তবে সেই সিদ্ধান্তের আর কোনো মূল্য থাকে না। যারা এই পরিবর্তন আনছে, তারা আসলে দেশের সঙ্গে বেইমানি করছে। এরা স্বৈরাচারী মানসিকতার মানুষ। তারা জুলাই সনদের বাস্তবায়ন চায় না, বরং বারবার বিতর্ক সৃষ্টি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
যারা গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে অযথা বিতর্ক তুলছে, তারা অতীতেও দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কাজ করেছে, এখনও করছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশকে অশান্ত রাখা, যেন সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে না পারে। আমরা মনে করি, জনগণ ভালোভাবেই জানে, এই শ্রেণির লোকেরা নির্বাচনে কতটা সমর্থন পাবে। তাই তারা ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হতে পারে । আগে গণভোট করলে তা দেশের ক্ষতি এবং অর্থের অপচয় হবে। বর্তমানে দেশের অর্থনৈতিক সংকট চলছে, সরকার প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করতে পারছে না। এমন অবস্থায় গণভোটের নামে অর্থ নষ্ট করা জনগণের স্বার্থবিরোধী।
যারা গণভোট চায়,গণভোট কি তারা সেটাই জানে না- ইউসুফ মোল্লা টিপু
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, যারা এখন গণভোটের কথা বলছে, তারা আসলে গণভোট কী সেটাই জানে না, জানতেও চায় না। গণভোটের কোনো প্রয়োজন নেই; বরং এখন নির্বাচনই হওয়া উচিত। দেশে যদি কোনো বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হয়, তবে সে জন্য আলাদা উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে গণভোট দিয়ে কিছু হবে না। সাধারণ মানুষ এসব নিয়ে মাথা ঘামায় না। তারা বুঝতেও চায় না কেন গণভোট হচ্ছে। এটা মূলত কিছু মানুষের ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার জন্য করা হচ্ছে, জনগণের স্বার্থে নয়। আমরা জনগণের রাজনীতি করি জনগণের জন্য কাজ করি। তাই এই মুহূর্তে গণভোটের কোনো প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন সুষ্ঠু নির্বাচন এবং মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।
গণভোট নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি- নাভিদ নওরোজ শাহ
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক (কুমিল্লা অঞ্চল তত্বাবধায়ক) নাভিদ নওরোজ শাহ বলেন, আমরা গণভোটের পক্ষে, কিন্তু তা হতে হবে শান্তিপূর্ণ ও বাস্তবসম্মতভাবে। জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হলে আগে সব পক্ষকে সঙ্গে নেওয়া দরকার। গণভোট নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি।
নভেম্বর মাসের মধ্যেই সরকারকে গণভোট আয়োজন করতে হবে- এড. মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুমিল্লা মহানগরীর উপদেষ্টা এডভোকেট মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ নিজেই ঠিক করবে কোন পথ তারা চায়। নির্বাচনের আগে বা একই দিনে সময় নয়, মূল বিষয় হলো জনগণের মত নেওয়া। নভেম্বর মাসের মধ্যেই সরকারকে গণভোট আয়োজন করতে হবে। গণভোটের তারিখ ঘোষণায় যত বিলম্ব হবে, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংকট ততই গভীর ও জটিল হবে। আমরা মনে করি, এই গণভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতে গত বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে যারা আন্দোলনের সময় নিহত হয়েছেন, তাঁদের সাংবিধানিকভাবে শহীদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে যাঁরা সেই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের আইনি সুরক্ষা প্রদানের বিষয়েও মতামত নেওয়া হবে। গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামতই হবে চূড়ান্ত এটাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি। তাই আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, দ্রুত সময়ের মধ্যে গণভোটের তারিখ ঘোষণা করা হোক।

নভেম্বরে গণভোট না হলে এ জাতি এক গভীর অনিশ্চিতার মধ্যে পড়ে যাবে-
মাও সৈয়দ আব্দুল কাদের জামাল
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি মাওলানা সৈয়দ আবদুল কাদের জামাল বলেন, আমরা খেলাফত মজলিস ইতিমধ্যে নভেম্বরের মধ্যেই গন ভোটের দাবী জানিয়েছি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি প্রধান করেছি । আমার দল এবং আমি মনে করি গন-ভোটের মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত হতে হবে। তা না হলে এ জাতি এক গভীর অনিশ্চিতার মধ্যে পড়ে যাবে।