সরজমিন দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সন্তান উজ্জলের লাশের পাশে আহাজারি করছেন বাবা মজনু মিয়া। এর আগে স্বজনরা রাত থেকেই ঘাটে অবস্থান করছিলেন উজ্জ্বলের খোঁজে। ডুবুরি দলের সদস্যরা ৩ নম্বর ফেরিঘাটের প্লটুনের সামনে থেকে প্রায় ৪০ ফুট গভীর পানির নিচ থেকে উজ্জ্বলের মরদেহ উদ্ধার করেন।
উজ্জলের পিতা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ঈদে আমার ছেলে বাড়ি আসে। আমাদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ কাটিয়ে বুধবার বিকালে ঢাকায় ফিরছিলো। তখনও জানতাম না আমার ছেলে ওই গাড়ির ভেতরে ছিল। রাতে তার ফোন বন্ধ পাওয়ায় সন্দেহ হলে আমরা পরিবারের সদস্যরা ঘাটে চলে আসি। রাতভর ছেলের খোঁজে কাটিয়ে দিই এখানে। এরপর সকালে আমার ছেলের লাশ পানি থেকে উদ্ধার করে ডুবুরি দল।’
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য’ পরিবহনের ওই বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বাসটি যাত্রা শুরু করেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে। তাতে কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাজবাড়ী জেলার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
