# কুসিক প্রশাসকের তৎপরতায় ধরা পড়ল কিশোর গ্যাং লিডার ‘টোকাই সামির’
# ভিক্ষুক মামলা না করলে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে –ওসি কোতয়ালী
# কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স- ইউসুফ মোল্লা টিপু
কুমিল্লা নগরীর অশোকতলা এলাকায় মাত্র ১৬০ টাকার জন্য এক অসহায় ভিক্ষুকের ওপর নৃশংস হামলা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার পর ভুক্তভোগীর সারাদিনের ভিক্ষায় পাওয়া অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার কয়েকদিনের মাথায় সিসিটিভি ফুটেজ, কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর তৎপরাতা ও স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং লিডার ‘টোকাই সামির’কে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ও কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার এ কথা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে সন্ধ্যায় নগরীর অশোকতলা এলাকায় ওত পেতে থাকা কয়েকজন কিশোর এক ভিক্ষুকের গতিরোধ করে। এক পর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। পরে তার সঙ্গে থাকা সারাদিনের ভিক্ষায় প্রাপ্ত ১৬০ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা ভিক্ষুককে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
জানা যায়, ঘটনার নির্মমতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় জনমনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। বিভিন্ন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নজরে আসে। ফলে তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের শনাক্ত করে ও আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন।
একই সাথে কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আশিক, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের কিশোর গ্যাং লিডার সামির বিষয়ে দ্রুত খোঁজ নিতে নির্দেশ দেন। পরে দলীয় নেতাকর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় নিজেদের মতো করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। অশোকতলা জামে মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং নেতা ‘টোকাই সামির’-কে তারা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
গতকাল বুধবার ( ৩জুন) অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং নেতা ‘টোকাই সামির বিএনপির দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর জালে আটকে যান। পরে তাকে আটক করে বিষয়টি কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে জানানো হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং কুমিল্লা পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তার নির্দেশনায় কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটককৃতকে হেফাজতে নেয়। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য টোকাই সামিরকে কোতয়ালী মডেল থানায় নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, কিশোর গ্যাং লিডার সামিরকে আমরা থানায় নিয়ে এসেছি। ভিক্ষুক যদি মামলা না করে তাহলে তাকে কিশোর গ্যাংয়ের নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে।
কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। যারা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অশোকতলাসহ নগরীর কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ অনেক সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। তারা শুধু এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নয়, কিশোর গ্যাংয়ের পুরো নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
এদিকে অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং এ ব্যাপারে ভুমিকা রাখায় কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
স্থানীয়রা আশা করছেন, এ ঘটনার মাধ্যমে কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা যাবে এবং ভবিষ্যতে এমন অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।