গোমতীর ভাঙনে বিলীন রাস্তা ও ফসলি জমি

দেবিদ্বার প্রতিনিধি ।।
প্রকাশ: ১৩ ঘন্টা আগে

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের রঘুরামপুর গ্রাম। গোমতী নদীর ভাঙনে ঝুঁকিতে রয়েছেন গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। গত কয়েক বছর ধরে নদীভাঙনে একের পর এক ফসলি জমি ও চলাচলের রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এখন নদী চলে এসেছে বসতভিটার একেবারে কাছাকাছি। এতে ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয়দের।

স্থানীয় কৃষক হাসেম মিয়া বলেন, গোমতীর ভাঙনে তাদের অনেক ফসলি জমি ইতিমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। যে জমিতে একসময় ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ হতো, এখন সেখানে নদীর পানি। ভাঙন বন্ধ করা না গেলে বসতভিটাও নদীর কবলে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেন তিনি।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, কয়েক বছর ধরে নদীর পাড় ধীরে ধীরে ভাঙছে। বর্ষা এলেই নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়। নদী এখন বাড়িঘরের খুব কাছে চলে আসায় পরিবার নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাতে হচ্ছে।

কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, নদীভাঙনে শুধু ফসলি জমিই নষ্ট হচ্ছে না, গ্রামের চলাচলের রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহনসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় পানির নিচে তলিয়ে যায় রঘুরামপুর। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও স্থানীয় অবকাঠামো। স্থানীয়দের দাবি, সেই ক্ষতির রেশ এখনো কাটেনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সরু মেম্বার বলেন, রঘুরামপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন ও বন্যার সঙ্গে লড়াই করে আসছেন। বর্তমানে গ্রামের প্রধান সড়কটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নদীর লুপ কাটিং, জিও ব্যাগ ও ব্লকের মাধ্যমে রঘুরামপুর গ্রামটি রক্ষায় কাজ করা হবে।