কুড়িগ্রামের উলিপুরে নির্ধারিত দামে সার না পাওয়া ও কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের গাবতলি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে।
বিক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, ভরা আমন মৌসুমে সরকারি নির্ধারিত দামে ডিলারের কাছ থেকে ইউরিয়া সার পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ খুচরা দোকানে একই সার চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কৃষকদের সার না দিয়ে স্থানীয় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশি দামে সার বিক্রি করা হচ্ছে। এতে প্রান্তিক ও ছোট কৃষকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিক্ষোভের সময় এক কৃষক বলেন, দিনের পর দিন ডিলারের কাছে ঘুরেও তিনি সার পাননি। কিন্তু খুচরা দোকানে অতিরিক্ত টাকা দিলেই সার পাওয়া যাচ্ছে। ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার যোগসাজশে সারের সংকট তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার গুনাইগাছ ইউনিয়নের গাবতলি বাজারের একটি খুচরা সারের দোকানে গিয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় সেখানে থাকা কৃষকরা তাকে দেখতে পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পরে তারা ওই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে সড়কে অবস্থান নেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় কর্মকর্তা স্থানীয় একটি দোকানে ঢুকে নিজেকে রক্ষা করেন।
বিক্ষুব্ধ কৃষক আব্দুল মাজেদ বলেন, ‘আমাদের বিএস (ব্লক সুপারভাইজার) আইডি কার্ড নিয়েও সার দেওয়া হয় না। এখানকার দুটি দোকানে সার রেখে দেওয়া হয় এবং গোপনে সেখানে সার দেওয়া হয়। সাধারণ কৃষকেরা গেলে বলা হয়, সার নেই।’
কৃষক সমীর উদ্দিন বলেন, ‘বিএস সার বিক্রির জন্য খুচরা দোকানদারের কাছে আসছেন, অথচ আমরা সার পাচ্ছি না। এ কারণে তাকে আটক করা হয়েছে।’
আরেক কৃষক মহসীন আলী বলেন, ‘আমরা সার পাচ্ছি না। আমন আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রতিকার না হওয়া পর্যন্ত আমরা তাকে ছাড়ব না।’
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে উলিপুর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার বলেন, ‘শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আমি ওই বাজারে গেলে কৃষকরা উত্তেজিত হয়ে আমাকে ঘিরে ফেলে। এসময় কেউ কেউ আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেয়। বিক্ষুব্ধ কৃষকদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে আমি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নিই এবং প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে।’
উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম আরিফ বলেন, ‘শুক্রবার ওই বাজারে সার বিক্রির কোনো কথা বা ঘোষণা ছিল না। কিন্তু সেখানে কৃষি কর্মকর্তাকে কৃষকরা ঘিরে ফেলেছে খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে নিয়ে আসা হয়।’
উলিপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন গুনাইগাছ ইউনিয়নের গাবতলী বাজার গেলে সেখানকার কৃষকরা তাকে ঘিরে ধরেন। পরে অবস্থা খারাপের দিকে গেলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।’
তিনি আরও বলেন, ঘটনা তেমন কিছু না, খুবই সিম্পল।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার বলেন, ‘গুনাইগাছ ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে সারের দাবিতে স্থানীয় কৃষকরা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপনকে একটি দোকানে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।’