পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদারের বিরুদ্ধে ১২ বছরের এক শিশু ও তার মাকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে পটুয়াখালী জেলা বিএনপি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. মবিনুর রহমান টোটন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সি এক শিশু ও তার মায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি জেলা বিএনপির দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ওই ঘটনায় নৈতিক অবক্ষয়, নৈতিক স্খলন ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুতর ও অনভিপ্রেত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, সে বিষয়ে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে ১২ বছরের এক শিশু ও তার মাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।
কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামে মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে শিশু (১২) ও তার মাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এ ঘটনায় হাফিজুর রহমান চুন্নু ও তার ভাই আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ, মারধরের পর ভয়ে মা-ছেলে চার দিন বাড়ির বাইরে বের হতে পারেননি। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জানতে পেরে মঙ্গলবার সকালে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
জেলা বিএনপির এই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আখান কুদ্দুসুর রহমান ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু ও কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতিকে।