কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার সন্দেহভাজন সিএনজিচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহত তাজমিনকে বহনকারী সিএনজিচালক হিসেবে পরিচিত সুমনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে।
এর আগে, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। পরে অটোরিকশাটি জব্দ করে সেটির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সুমনের বাড়ি কুমিল্লার জয়নগর এলাকায়। তিনি সাধারণত রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সুমনের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই এবং তিনি মোবাইল ফোনও ব্যবহার করেন না। ফলে প্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এর আগে সুমনের খালাশাশুড়ি ও বোনজামাইকে আটক করার তথ্য জানিয়েছিল পুলিশ।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল আলীম রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে সে কক্সবাজারে গিয়েছিল বলে জানা যায়। ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নেমেছিল সে।
এ ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।
সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বরাতে নিশ্চিত করা হলে তাঁর গ্রেপ্তারের সময়, স্থান ও মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।