কুমিল্লা আইটি ইনস্টিটিউটের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উদযাপন

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। তিনি বলেন, বিশেষ করে কৃষি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কৃষিপণ্য রপ্তানিতেও বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) কুমিল্লার পুলিশ লাইন কনভেনশন হলে কুমিল্লা আইটি ইনস্টিটিউটের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত ‘উড়ান-৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা আইটি ইনস্টিটিউট পাঁচ বছর ধরে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কাজ করছে। এখানে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী প্রযুক্তি ও বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করছেন। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশ্বজুড়ে রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতে দক্ষতা অর্জনকারীরা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।

তরুণদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে তরুণদের জড়িয়ে পড়ার খবর দেখলে মন খারাপ হয়। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, পৃথিবীতে খারাপ মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তাঁর মতে, ৯৮ শতাংশ মানুষই ভালো, আর খারাপ মানুষের সংখ্যা ২ শতাংশের বেশি নয়। কিন্তু ভালো মানুষদের যথাযথভাবে সামনে না আনার কারণে সমাজে তাঁদের অবদান অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। অন্যদিকে, অল্পসংখ্যক অপরাধী সংঘবদ্ধভাবে চলায় তাদের উপস্থিতি বেশি বলে মনে হয়।

কৃষি খাতের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে কৃষক জানেন না বাজারে কী পরিমাণ পণ্যের চাহিদা রয়েছে, ব্যবসায়ীরা জানেন না মোট উৎপাদনের পরিমাণ, এমনকি সরকারের কাছেও সব ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য থাকে না। এ সমস্যা সমাধানে কৃষি খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। উৎপাদন, বাজারব্যবস্থা ও চাহিদার মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠায় সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে নির্দিষ্ট সময়ে দেশে পেঁয়াজ আমদানি করতে হতো। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য হাজার হাজার স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি। দেশে পেঁয়াজের দাম কমলেও কৃষকরা যাতে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে পেঁয়াজ রপ্তানির দিকেও এগিয়ে যেতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে এমন অনেক কৃষিপণ্য রয়েছে, যেগুলো এখনো আমদানি করতে হয়। পরিকল্পিত উৎপাদন ও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে এসব পণ্যও একসময় রপ্তানি করা সম্ভব হবে। কৃষি খাতকে শুধু উৎপাদননির্ভর না রেখে প্রযুক্তিনির্ভর ও বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশটা তাঁদেরই। তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবনী ও সম্ভাবনাময় প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে এলে সরকার ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহযোগিতা দেবে। শহর কিংবা প্রত্যন্ত গ্রাম, যেখানেই তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হোক না কেন, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির পাশাপাশি কৃষি খাতকেও প্রযুক্তিনির্ভর করার কাজ চলছে। ফিন্যান্সিয়াল প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেও আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে উঠছে। শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন। তাঁদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগাতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা আইটি ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. হোসেন মিয়া, কুমিল্লা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজীব তালুকদার, কুমিল্লা মডার্ন স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আলী আক্কাস, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল জলিল, আইসিটি আইএসসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরেন্দ্র অধিকারী এবং জেলা আইসিটি কর্মকর্তা বসির আহমেদ।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়। পরে কেক কেটে প্রতিষ্ঠানের পঞ্চম বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সিও আইসিটি ইনস্টিটিউটের হোসেন মোহাম্মদ ফয়সাল। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্রতিষ্ঠানের উপদেষ্টা জয়ব্রত ঘোষ।