ঈদের দিন গান-বাজনা ও আতশবাজি ফুটানো ইসলামের বিধান নয়

জাহিদ হাসান নাইম ।।
প্রকাশ: ২ মাস আগে

‘পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর ও আমাদের করণীয়’ বিষয়ক টক শো অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (০৮ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লা আল নূর হসপিটালের সৌজন্যে দৈনিক আমাদের কুমিল্লা ও জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল কুমিল্লার জমিনের যৌথ উদ্যোগে এ টক শো অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিক, সংগঠক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক শাহাজাদা এমরানের সঞ্চালনায় ১১৬ তম পর্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মাদ্রাসায়ে আশরাফিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মুফতি শিহাব উদ্দিন ও চৌদ্দগ্রাম চিউড়া কাজী বাড়ি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মো. আহসান হাবিব।
এ সময় টকশোতে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল ফিতরের সময় করণীয় বর্জনীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে এসেছে।
আলোচনার এক পর্যায়ে, মাওলানা মুফতি শিহাব উদ্দিন বলেন, আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ আমাদেরকে মানুষ হিসেবে মনোনীত করার পর মুসলমান হিসেবেও কবুল করেছেন। মুসলমান হিসেবে কবুল করার পর আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে মহানবী (সাঃ) এর উম্মত হিসেবে কবুল করেছেন। এমনকি আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে সকলের আগে জান্নাতে নিবেন। অন্যান্য রাসূলের উম্মতের চেয়েও, আমরা যারা মহানবী (সা.) এর উম্মত, আমাদের গড় হায়াৎ কম হবে। যার কারণে, আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে রমজান ও লাইলাতুল কদরের মতো বিশেষ কিছু নিয়ামত দান করেছেন। রমজানে প্রতিটা ভালো কাজের জন্য ৭০ টা ভাল কাজের সওয়াব পাওয়া যায়। ইসলাম ধর্ম ছাড়া আর কোনো ধর্মই আল্লাহ’র নিকট বিবেচ্য নয়। তাওরাত, যাবূর, ইনজিল এখন মেয়াদোর্ত্তীর্ণ। ঈদের দিন ডিজে পার্টি, গান বাজনা ও আতশবাজি বিভিন্ন অপসংস্কৃত এগুলো প্রকাশ করা আমাদের ধর্মীয় বিধান নয়। এগুলো অন্য কোনো বানানো ধর্মের সংস্কৃতি। আর ঈদের নামাজের পূর্বে ফিতরা আদায় করতে হবে। এটা ওয়াজিব। ফিতরার উদ্দেশ্য, ধনী দরিদ্র সবাই যাতে একসাথে ভালোভাবে ঈদ পালন করতে পারে। আবার, ধর্ম যার যার উৎসব সবার, এই কথাটি আমাদের শরীয়ত কখনোই সমর্থন করে না। তাই আমাদের কে এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
মাওলানা মো.আহসান হাবিব বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) যখন মদিনায় হিজরত করেন তখন তিনি দেখলেন মদীনার মানুষেরা ২ দিন উৎসব হিসেবে পালন করেন। তখন, আল্লাহর রাসূল তাদেরকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে, তারা বলে, আমরা জাহেলী যুগ থেকে এই দুই দিন উৎসব করি। এখানে নাচ গান ছিলো। যা ইসলাম সমর্থন করে না। তাই রাসূল (সা.) তখন সবাইকে বললেন, আল্লাহ তা’য়ালা এর চেয়ে উত্তম দুইটি দিন উৎসব হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। সেই থেকেই ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালিত হয়ে আসছে। তবে, আমাদের দেশে অনেকে তৃতীয় একটি ঈদ ‘ঈদ-ই-মিলাদুন্নবি’ পালন করে আসছে। কিন্তু, ইসলামে তৃতীয় কোনো ঈদ নেই। এটা কুরআন ও হাদিস পরিপন্থিও বটে। সাহাবা রা কখনো রাসূল (সা.) এর জন্মদিনকে কেন্দ্র করে কোনো ঈদ পালন করেন নি। আর, ঈদের আনন্দ হচ্ছে মূলত প্রাপ্তির খুশি। এটা পুরস্কারের দিন। তারাই পুরস্কার পাবেন, যারা পুরষ্কার পাওয়ার মতো কাজ করেছেন। আর ঈদের দিন নতুন পোষাক পড়তে হবে এমন কোনো বিধান নেই, তবে সামর্থ্যের মধ্যে নতুন পোষাক পড়া যেতে পারে। আর ঈদগাহে এক রাস্তা দিয়ে যাবে ও অন্য রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরবে। যাওয়ার সময় মনে মনে তাকবীরের ধনী দিতে থাকবে। এগুলো হচ্ছে আমাদের করণীয়। আর বর্জনীয় বিষয় হচ্ছে, মা বোনদের বেপর্দা চলা ফেরা করা, অমুসলিমদের সংস্কৃতি অনুসরণ করা, এগুলো বর্জন করতে হবে।