একজন কায়সার : কুমিল্লায় সাহসী তরুণ নেতার আভির্ভাব

ভোট ফেরত পর্যবেক্ষণ
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

গত ১৫ জুন ফলাফল ঘোষণার পর্বটি বাদ দিলে বলা যায় খুব শান্তিপূর্ণ ভাবেই সম্পন্ন হয়েছে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের তৃতীয় নির্বাচন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোট গ্রহণ পর্যন্ত কোন পর্যায়েই এমন কোন ঘটনা ঘটেনি যেখানে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের আরফানুল হক রিফাত, স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সারের বাকযুদ্ধ নগরে আলোচিত হয়েছে। কিন্তু মোটা দাগে এ কথা বলা যাবে না যে, তাদের বাকযুদ্ধ বা বাহাস শালীনতার সংস্কৃতিতে অতিক্রম করেছে। সবকিছু ভালোভাবে আগানোর পর ফলাফল ঘোষণার শেষ পর্যায়টি কেন এমন অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়ানো গেল না এটা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বারবার ভাবতে হবে ভবিষ্যত নির্বাচনে এ ধরনের বিতর্ক এড়ানোর জন্যই।

গত ১৫ জুনের নির্বাচনে ৩৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারি ভাবে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রথমবারের মত মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন নৌকার মাঝি ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত। তার নিকটতম প্রতিদ্ধন্ধী হলেন সাবেক মেয়র ও টেবিল ঘড়ি নিয়ে নির্বাচন করা মনিরুল হক সাক্কু। যদিও মনিরুল হক সাক্কু এই ফলাফল প্রত্যাখান করে আইনী লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তৃতীয় হয়েছে ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার। ব্যস, এতটুকুই থাকার কথা ছিল নির্বাচন পরবর্তী পর্যবেক্ষনমূলক খবর। কিন্তু নির্বাচনের পর গত কয়েকদিনে দেশের বেশ কয়েকটি জাতীয় পত্রিকায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ খবর। সেই খবরের মূল নির্যাসটুকু হলো, একজন নিজাম উদ্দিন কায়সার। একজন তরুণ, উদীয়মান স্বাপ্নিক নেতা। কুমিল্লার জনগণ খুঁজে পেয়েছে আগামী সুন্দর কুমিল্লা বির্ণিমানে এক সাহসী নেতাকে। যার আর্ভিভাব হলো কুমিল্লা সিটির তৃতীয় নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে।

ভোট ফেরত সমীক্ষা চালাতে গিয়ে যখন আমরা বিভিন্ন পর্যায়ের সাথে কথা বলে জানতে চেয়েছি, ২০১২ সালের কুসিক নির্বাচনে কুমিল্লার প্রতিষ্ঠিত সাবেক দুই ছাত্র নেতা যাদের কলেজ পর্যায়েও নির্বাচন শীর্ষ পদ পর্যন্ত নির্বাচিত হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই প্রতিষ্ঠিত শীর্ষ নেতাদের যেখানে মাত্র কয়েক হাজার ভোট পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে সেখানে নির্বাচনের রাজনীতিতে একেবারেই অনভিজ্ঞ, অপরিচিত মুখ, সদ্য ছাত্র রাজনীতি থেকে বের হয়ে একটি দলের মধ্যম পর্যায়ের অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতিতে সবেমাত্র যাত্রা শুরু করেছে সেই তরুণ কিভাবে প্রায় ৩০ হাজারের মত ভোট পেতে পারে।

কুমিল্লার ২৭টি ওয়ার্ডের ১০৫টি কেন্দ্রের বিভিন্ন পেশার কমপক্ষে দুই থেকে তিনশ সাধারণ মানুষের সাথে আমরা কথা বলেছি। তাদের সাথে কথা বলে একটি কথা প্রায় অভিন্নভাবে এসেছে, সেটা হলো, কুমিল্লার মানুষ কখনো ভীরুদের পছন্দ করে না। তারা চায় সাহসী সন্তান। যিনি খাদের কিনারায় দাঁড়িয়েও পড়ে যাওয়ার ভয় না করে জীবনের জয়গান গেতে পছন্দ করে। নিজাম উদ্দিন কায়সার সেই অমিত সাহসী বীরদেরই একজন নায়ক হিসেবে কুমিল্লার জনগনের সামনে দাঁড়িয়েছে।

নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডের শালবন বিহার কেন্দ্রের একজন কলেজ শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি কখনো বিএনপি করি না এবং আওয়ামী লীগের বাহার ভাইয়ের রাজনীতি করি না এবং করবও না। কিন্তু একথা বলতে দ্বিধা নেই এমপি আকম বাহাউদ্দিন বাহার কুমিল্লার রাজনীতিতে একজন সাহসী নেতার নাম। দেরীতে হলেও কুমিল্লার মানুষ এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে আরেকজন তরুণ সাহসী নেতাকে খুঁজে পেয়েছে যিনি কি না বন্ধুকের নলের সামনেও সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলে ছাড়েননি। শুধু নিজাম উদ্দিন কায়সারের প্রতিবাদী কন্ঠ ও সাহসী উচ্চারণের কারণে ভিন্ন দলের সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও ঘোড়া মার্কায় ভোট দিয়েছি। একই কথা বলেছেন প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ জনের মত মানুষ।

নগরীর ১ নং ওয়ার্ডের ভাটপাড়া চৌমহনীর বাম দল করা এক কলেজ ছাত্র যখন বলল, নিজাম উদ্দিন কায়সার আমাদের চিনে না, জানে না এমনকি কখনো দেখাও হয়নি। তারপরেও তাকে ভোট দিয়েছি শিল্পকলা একাডেমীতে সিইসি’র সামনে তার প্রত্যয়দীপ্ত প্রতিবাদী উচ্চারণ আর টাউনহল মিলনায়তনে ৭১ টিভিতে তার সাহসী বক্তব্যের জন্য। আপনাদের ভোট পেয়েতো নিজাম উদ্দিন কায়সার মেয়র হতে পারল না, তৃতীয় হলো- প্রতিবেদকের এ কথার তীব্র প্রতিবাদ করে ঐ যুবক জানাল নাম দিয়ে আমাদের বিপদে ফেলবেন না। শুধু এতটুকু বলি, আমরা ভোট দিয়েছি বলেই আজ নিজাম উদ্দিন কায়সার প্রায় ত্রিশ হাজারের মত ভোট পেয়েছে। এই ভোটের উপর ভিত্তি করেই কুমিল্লা নগরবাসী খুঁজে পেল আগামী দিনের নগর পিতাকে। আমাদের বিশ^াস, ভবিষ্যত সিটি নির্বাচনে যদি বিএনপি দলীয়ভাবে অংশগ্রহন করে তাহলে এই ভোট কায়সারকে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে একধাপ এগিয়ে রাখবে। সাথে থাকা একই ওয়ার্ডের বিঞ্চুপর এলাকার এক সংগঠক জানালো, আগামীতে সিটি নির্বাচনে বিএনপিকে আর নতুন প্রার্থী খুঁজে বের করতে হবে না। হেভিওয়েট এবং ব্যাপক পরিচিত পাওয়া দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে প্রায় ত্রিশ হাজার ভোট পাওয়া নিজাম উদ্দিন কায়সারই যে তাদের শক্তিশালী প্রার্থী হবে এটা হলফ করে বলতে পারি।

স্নাতক সম্পন্ন করা নিজাম উদ্দিন কায়সার ১৯৯৮ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র ছাত্রী সংসদের ওয়াসিম-সানাউল্লাহ পরিষদে সহ সমাজকল্যাণ সম্পাদক হিসেবে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। তার ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপের কারণে নিজাম উদ্দিন কায়সারকে বলা হয় ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের এ যাবতকালের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল সভাপতি। পরে নির্বাচিত হন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক। সর্বশেষ তিনি কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নির্বাচিত হন একই সাথে দায়িত্ব পালন করেন কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের কুমিল্লা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদকের পদও।
একজন একেবারেই নতুন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রায় ত্রিশ হাজার ভোট পাওয়াকে কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে কুমিল্লা নগরীর তরুণ নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, দেখুন আমি যখন প্রচারণায় ছিলাম তখন লক্ষ করেছি, শুধু বিএনপি নয় অনেক আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাধারণ কর্মী সমর্থকরাও আড়ালে থেকে আমাকে হাত নেড়ে শুভাশিষ জানিয়েছে। তখনই বুঝতে পারছি আমি বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন দলের ভোটও পাব। অন্য দুই প্রার্থী অভিন্ন কৌশলে আমাকে হারিয়ে দিয়েছে। নতুবা আমিই আল্লাহর রহমতে মেয়র নির্বাচিত হতাম। তারপরেও আমি কৃতজ্ঞতা জানাই আমার প্রিয় দল বিএনপিও তার সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের যারা ঝুঁকি আছে জেনেও আমার জন্য মাঠে থেকেছে কাজ করেছে। একই সাথে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই আমার প্রানপ্রিয় কুমিল্লা নগরবাসীকে যারা আমাকে ধারণ ও লালন করেছে এবং প্রিয় ত্রিশ হাজার ভোট দিয়ে তাঁদের মনের আসনে ঠাঁই করে দিয়েছেন। আল্লাহর অশেষ রহমতে কথা দিচ্ছি, আমি মেয়র হতে না পারলেও কুমিল্লা নগরবাসীর সুখে দু:খে পাশে থাকব এবং জনগনের যে কোন প্রয়োজনে পাশে এসে দাঁড়াব ইনশাআল্লাহ।