কুমিল্লায় মহাসমাবেশে হাজী ইয়াছিন : অপেক্ষার প্রহর শেষ হলে কুমিল্লাবাসী চিঠিপত্রে , সাইনবোর্ডে কুমিল্লা বিভাগ লিখা শুরু করবে

বিভাগ চাই স্লোগানে কাঁপলো কুমিল্লা নগরী, পূবালী চত্বরে জনসমুদ্র
জাহিদ হাসান নাইম।।
প্রকাশ: ২ মাস আগে

কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণার দাবিতে নগরীর পূবালী চত্বরে আয়োজিত মহাসমাবেশে সৃষ্টি হয় জনস্রোত। শনিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টা থেকে নগরীসহ আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকেও দলে দলে মানুষ সমাবেশস্থলে ভিড় করতে থাকেন। মুহূর্তেই পূবালী চত্বর পরিণত হয় জনসমুদ্রে। চারদিক থেকে “বিভাগ বিভাগ, বিভাগ চাই কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই” স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে নগরী।
সমাবেশে কুমিল্লার বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বসহ সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কুমিল্লা ব্যবসায়িক সমিতির অন্তর্গত ৭২টি সংগঠন সমাবেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত তাদের সব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে কর্মসূচিতে যোগ দেয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, কুমিল্লা বিভাগ কোনো নতুন দাবি নয়, এটি বহু বছরের দাবির প্রতিফলন। কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর সব জেলা কুমিল্লার নামে বিভাগ চায়। শুধু নোয়াখালী কিছুটা ভিন্ন মত দিয়েছে। তবে নোয়াখালীর বহু মানুষও মনের গভীরে কুমিল্লাকে বিভাগ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চান।
তিনি আরও বলেন, যারা কুমিল্লাকে বিভাগ দেয়নি, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করেনি। তারা জঙ্গল দিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। কুমিল্লা আজ শিক্ষা ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে। তরুণ প্রজন্ম ‘জেন-জি’ যতদিন থাকবে, কেউ কুমিল্লাকে পিছিয়ে দিতে পারবে না। সরকার এখনই সময় বুঝে বিভাগ ঘোষণা দিক, নইলে অপেক্ষার প্রহর শেষ হলে জনগণ নিজেরাই চিঠিপত্রে ও সাইনবোর্ডে কুমিল্লা জেলার পাশাপাশি লিখে দেবে কুমিল্লা বিভাগ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহানগর জামায়াতে ইসলামী আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, কথা এক, দাবি এক, কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই। বছরের পর বছর কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে। আমরা এবার আর কোনো টালবাহানা মেনে নেব না। শান্তিপূর্ণ উপায়ে হলেও এই দাবি আদায় হবেই।
বক্তব্যে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক কুমিল্লা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র। কুমিল্লা বিভাগ বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। আইনশৃঙ্খলা নষ্ট না করে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছি, তবে আমাদের দাবি ন্যায্য, এটা সরকারকে মানতেই হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যেই খুনী হাসিনার কারণে আমরা বিভাগ থেকে বঞ্চিত, সেই ফ্যাসিস্টের দোসররা আবারো মাথা ছাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, কিন্তু কুমিল্লার মানুষ তা হতে দেবে না।
দৈনিক কুমিল্লার কাগজ সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয় ও যুবদল নেতা খলিলুর রহমান বিপ্লবের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আমীরুজ্জামান আমীর, কুমিল্লা দোকান মালিক ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর এমদাদুল হক মামুন, বিএনপির তরুণ নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সার, হেফাজতে ইসলাম কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি মাওলান শামছুল ইসলাম জিলানী, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা নূর হোসাইন, এবি পার্টির গোলাম সামদানি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, নোয়াখালীর বিরুদ্ধে কোনো বিদ্বেষ নয়, তারা তাদের মতো দাবি তুলুক, কিন্তু কুমিল্লার আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও সরকার যেন এটিকে দুর্বলতা মনে না করে। এটাই গণমানুষের দাবি, তাই দেরি না করে দ্রুত কুমিল্লা নামেই বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। সমাবেশ শেষে পুরো পূবালী চত্বর ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। কুমিল্লা বিভাগের দাবিতে এমন গণজোয়ার কুমিল্লাবাসীর মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। সকলের দাবি একটিই, কুমিল্লা নামে বিভাগ চাই।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর কুমিল্লা নগরীর পূবালী চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর টিপু চৌধুরীর আহবানে আয়োজিত এক মহাসমাবেশে জেলার ১৭টি উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ একই দাবিতে অংশ নিয়েছিল।