কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি : সেক্রেটারি আবু তাহেরের বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ

# তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে - তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মমিন # অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন- সেক্রেটারি তাহের # সেক্রেটারির কক্ষে বিক্ষুদ্ধ আইনজীবীদের তালা
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

কুমিল্লা জেলা আইনজীবি সমিতির সেক্রেটারী এড. আবু তাহেরের বিরুদ্ধে ২০২২-২০২৩ সেশনে আড়াই কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাতের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব এড. আবদুল মমিন ফেরদৌস বলেন, আমরা নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগটির সত্যতা পেয়েছি।অপর দিকে, অভিযুক্ত সেক্রেটারী এড. আবু তাহের তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবী করেছেন।
এদিকে সেক্রেটারি আবু তাহেরের সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে রবিবার (২৪ মার্চ) দুপুরে আদালত চত্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে সাধারণ আইনজীবীরা। পরে বিক্ষুদ্ধ আইনজীবীরা সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে তার কক্ষে তালা মেরে দেয়।
বৃহস্পতিবার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর কুমিল্লা বারে এ নিয়ে তোলপাড় চলছে। এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতির নিকট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি।
জানা যায়, কুমিল্লা জেলা আইনজীবি সমিতির ২০২২-২০২৩ সেশনের বার্ষিক সাধারন সভায় সাধারন সম্পাদক কর্তৃক প্রদত্ত হিসেবে গড়মিল পরিলক্ষিত হওয়াতে বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদসহ বারের ৫শতাধিক আইনজীবীর উদ্যোগে গত বছরের ১২ জুন পুনরায় তদন্তের জন্য দাবি জানানো হয়। পরবর্তীতে ২০২৩-২০২৪ সেশনের কার্যকরী কমিটির ২৩ জুন তারিখর জরুরী সভায় জেলা পিপি এড. জহিরুল ইসলাম সেলিম কে আহবায়ক ও আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এড. আবদুল মমিন ফেরদৌসকে সদস্য সচিব করে ১৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ২১ মার্চ (বৃহস্পতিবার) তদন্ত প্রতিবেদন জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এড. আহসানউল্লাহ খন্দকারের নিকট জমা দেন। এ তদন্ত প্রতিবেদনে ৪০ খাতে সাবেক সেক্রেটারী এড. আবু তাহেরের দূর্নীতি ও অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরে। এর মধ্যে শুধু মাত্র বারের আয়ের নানাবিধ খাত থেকে ১ কোটি ৫৮ লাখ ২ হাজার ২৪৮ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বারের একবছরের ব্যয়ের সকল খাত থেকে আরো ১কোটি টাকার তহবিল তসরুফ করার প্রমান পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
সবচাইতে চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে জেলা পরিষদের অর্থায়নে বঙ্গবন্ধুর মুরালে নির্মিত হওয়ার কথা। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক পুরো কাজটি বারের তহবিলের টাকা খরচ করে নির্মাণ কাজ শেষ করে জেলা পরিষদের ২৫ লাখ টাকা তুলে হাতিয়ে নিয়েছেন।
১৫ পৃষ্টার এ প্রতিবেদনে তদন্ত কমিটির ১৫ সদস্যের মধ্যে আহবায়ক ও সদস্যসচিব সহ ১৩ জনের স্বাক্ষর রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা বারের সেক্রেটারী এড. আবু তাহের বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কুমিল্লা বারের ইতিহাসে আমিই প্রথম সাধারণ সম্পাদক যে কি না পর পর দুই বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছি। বারে আমার জনপ্রিয়তায় ঈশর্^ানিত হয়ে আমার দলের এক শ্রেণীর সুবিধাভোগী ও বিএনপি জামায়াত এ হেন কাজটি করছে। আগামী ২৮ মার্চ এজিএম। এটাকে সামনে রেখে তারা কল্পনাপ্রসূত ও বানোয়াট কাহিনী প্রচার করছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করে তাদের সকল অসত্য অভিযোগ প্রত্যাখান করছি।

এড. আবু তাহেরের অভিযোগ প্রত্যাখানের বিষয়ে জানতে চাইলে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও বারের সাবেক সেক্রেটারী এড. আবদুল মমিন ফেরদৌস বলেন, আমরা এড. জহিরুল ইসলাম সেলিম ভাইয়ের নেতৃত্বে ১৫ জন গত ৫/৬ মাস সময় নিয়ে নিবির ভাবে তদন্ত করেছি। সম্পূর্ন স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে আমরা তদন্ত কাজ করে আমাদের রিপোর্ট সভাপতি বরাবর পেশ করেছি। যেহেতু আমরা পেশাদার না, এবং জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন ছিল তাই আমাদের কাজে কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। তবে দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এড. আবু তাহেরের বিরুদ্ধে আড়াই কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ন সত্য এবং সন্দেহাতীত ভাবে সঠিক।