কুসিক নির্বাচন : এবার জয় পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারেন তরুণ ভোটাররা

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

আসন্ন ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন(কুসিক)নির্বাচনে প্রার্থীদের সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে প্রচারণা ও গণসংযোগ।যে হবেন ঐতিহ্যেরশহরের অভিভাবক? চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ভোটের মাঠে চলছে নানা তর্ক-বিতর্ক। আগ্রহের মূল কেন্দ্রবিন্দু সারা দেশজুড়ে এ সিটি নির্বাচন।জাতীয় নির্বাচনের জয়-পরাজয়েরহিসাব মিলাচ্ছেন এ নির্বাচনকে ঘিরে।নতুন নির্বাচন কমিশনারের কাছে কুমিল্লা নগরবাসী যেমন সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর চোখ এখন কুসিক নির্বাচনের দিকে।পর্যবেক্ষকদের মতে , এবার তরুণ ভোটাররা পাল্টিয়ে দিতে পারেন জয় পরাজয়ের সকল হিসাব নিকাশ। তাই মেয়র প্রার্থীদের এখন নজর এই তরুণ ভোটারদের দিকে।
আসন্ন কুসিক নির্বাচনে নতুন ভোটাররা রয়েছেন প্রার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। নগরে প্রায় ২২ হাজার তরুণ ভোটার এখন জয় পরাজয়ে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছেন। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে তরুণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তরুণ সমাজের দাবি-দাওয়া পূরণে ভূমিকা রাখবেন যে প্রার্থী তাকেই তারা ভোট দেবেন।
নগরীর শতাধিক তরুনের সাথে কথা বলে জানা যায়,বেশিরভাগ তরুন দলীয় বিবেচনার বাহিরে গিয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা, গ্রহনযোগ্যতাকে বিবেচনায় রেখে ভোট দিতে চান।এই সমস্ত তরুণরা আবার যাচাই করছেন ইসিতে জমা দেওয়া প্রার্থীদের অঙ্গীকারনামাগুলোও।
নগরীর ২৪ নং ওয়ার্ডের কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী নাজমুল আহসান এবারই প্রথমবার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তিনি জানান, জীবনের প্রথম ভোট কোনো দল নয়, শহরের সমস্যাগুলো সমাধান করবে এবং বিশেষ করে যানজট নিসরন করবে এমন কাউকেই ভোট দিবো।বিগত কয়েক বছর ধরে শহরে যানজটের কারনে আমাদের কলেজে যেতে বেগ পেতে হয়েছে।
নগরীর ১৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তানিয়া আক্তার বলেন, শহরে কয়েকঘন্টা বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় যানজটের ভোগান্তিতে নগরে চলাফেরা করা অনেক কষ্টকর। যে এসব সমাধানে কাজ করবে এমন কাউকেই ভোট দিতে চাই।
কুমিল্লার প্রধান তিন মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু, আরফানুল হক রিফাত ও নিজাম উদ্দিন কায়সারের সাথে এ প্রতিবেদক কথা বলেন পৃথক ভাবে। প্রায় অভিন্ন কন্ঠে এই তিন প্রার্থী জানান,
তরুন ভোটার নিয়ে তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে। ইশতেহারে তরুণ প্রজন্মের চাহিদার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন বিষয় সংযোজন করা হবে। এছাড়া মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর তরুণ প্রজন্মের চাহিদা অনুযায়ী নগরীকে নিয়ে নানান পরিকল্পনার কথাও জানান প্রার্থীরা।
জানতে চাইলে স্কুল শিক্ষক জাহেরা আক্তার বলেন, এবার তরুণ ভোটাররা কুসিক নির্বাচনে একটা বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, গেল নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু প্রায় সাড়ে দশ হাজার ভোটে আ’লীগ প্রার্থীকে হারিয়েছিল। কিন্তু এবার নগরীতে তরুণ বা নতুন ভোটারের সংখ্যা হলো ২২ হাজার ৩৫৪ জন। বিশাল এক সংখ্যা এখানে। সুতরাং যে প্রার্থী তরুণ ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বেশী গ্রহনযোগ্য এবং তাদের জন্য উপযুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন এই তরুণদের ভোট সেই বাক্সেই যাবে বলে আমার ধারণা।
ইসি সূত্রে জানায় যায়, কুমিল্লা সিটিতে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন। তাদের মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ১৭ হাজার ৯২ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ৮২৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। ২০১৭ সালের নির্বাচনে নির্বাচনে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে ভোটার ছিলো ২ লাখ ৭ হাজার ৫৬৬ জন। সে হিসেবে এবার নতুন বা তরুণ ভোটার ২২ হাজার ৩৫৪ জন।