টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে সাইকেল পেল ১৯ কিশোর

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

স্টাফ রিপোর্টার ।।  শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করতে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছিলেন ইতালি প্রবাসী এক যুবক। আর সেই ঘোষণায় উৎসাহিত হয়ে টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ পড়ে পুরস্কার জিতে নিয়েছে কুমিল্লার লাকসামে ১৯ জন শিশু-কিশোর।

উপজেলার বাকই দক্ষিণ ইউপির অশ্বদিয়া হাফেজিয়া এমদাদুল উলুম মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার বিজয়ীদের মাঝে সাইকেল বিতরণ করা হয়।

বিজয়ী শিক্ষার্থীরা হলেন – মুস্তাকিম,আসলাম,শাকিব,আবু মুছা,মাহমুদুল, আরমান, শাহরিয়ার,রবিউল, তাহমিদ, মেহেদী, আসিফ, মারুফ, আবু বকর, সুফিয়ান, তানভীর, আব্দুর রহমান, সামির, আনাস, রবিন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটানা ৪০ দিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করলে পুরস্কার হিসেবে একটি করে বাইসাইকেল দেওয়া হবে ঘোষণার পর থেকে অশ্বদিয়া গ্রামের অনেক শিশু-কিশোর মসজিদে নিয়মিত আসতে থাকে। তারা ঠিকমতো নামাজ আদায় করছে কিনা তা হিসার রাখার জন্য প্রতি ওয়াক্ত নামাজের পর হাজিরা নেওয়া হতো। যদি কেউ কোনো ওয়াক্তে অনুপস্থিত থাকত তখন তার গণনা বন্ধ করে দেওয়া হতো। তবে সে চাইলে তার নাম আবার লিখিয়ে নতুন করে নামাজের দিন গণনা শুরু করতে পারত। এভাবে নিয়মিত যাচাই-বাছাই ও হাজিরার ভিত্তিতে সর্বশেষ ১৯ জন বিজয়ী হয়।

মুসল্লিরা জানিয়েছেন, প্রতিযোগিতা চলাকালীন শিশু-কিশোরদের শুধু নামাজই পড়ানো হয়নি। সঠিকভাবে নামাজ শিক্ষা ও নামাজ সম্পর্কে জরুরি মাসায়ালাও শেখানো হয়। সেই সঙ্গে তালিম-তরবিয়ত এবং নামাজের প্রতি মানুষকে আহ্বানের পাশাপাশি দ্বীনি ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

শিশু-কিশোরদের নামাজের প্রতি আকৃষ্ট করে মসজিদমুখী করার লক্ষ্যে আয়োজিত এমন উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

‘আইয়ান আয়াশ মানবতার ফাউন্ডেশন’- এর পরিচালক  জাছিফ আলম যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান তরুণরা নানা ধরনের অন্যায় অপরাধ কাজের সাথে জড়িত, মোবাইলের প্রতি আসক্ত। তাদেরকে এই পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে এই উদ্যোগ নিয়েছি। এর মাধ্যমে তরুণদের নামাজ আদায়ের প্রতি আকৃষ্ট করা ও তাদের ধর্মীয় শিক্ষা দানের একটি প্রচেষ্টা করা হয়েছে।

সমাজ সেবক ও ছাত্রনেতা আশিকুর রহমান যুগান্তরকে বলেন,বর্তমান সময়ে আকাশ সংস্কৃতির ছোঁয়ায় আমাদের শিশু-কিশোররা ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ছে। তাই  শিশু কিশোরদের নামাজের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে আয়োজকরা এমন একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। আমাদের প্রত্যেকের উচিত মানবসেবায় এগিয়ে আসা,মানবতার জন্য কাজ করা,মানুষের জন্য সেবামূলক কাজ করা।

বিশিষ্ট সমাজ সেবক শাহজাহান আমিনের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্রগ্রাম বেওয়ারিশ ফাউন্ডেশনের পরিচালক পুলিশের কর্মকর্তা শওকত হোসেন, অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে ছিলেন অশ্বদিয়া ইসলামীয়া এমদাদুল উলুম মাদ্রাসার সভাপতি ক্বারী আব্দুল মান্নান, মাদ্রাসার পরিচালক ক্বারী আব্দুল মালেক, আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কাশেম।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন মাস্টারর জসীম উদ্দিন, কামাল হোসেন, নজরুল মিয়াজী,ফোরকান মিয়াজী,সাকিল,ইব্রাহীম খলিল সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।