আ’লীগ নেতা ইউসুফ আলীর বিরুদ্ধে মসজিদের ছয় লক্ষ টাকা চুরির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম মুন্সিরহাটের ছোটখিল জামে মসজিদ
সুফিয়ান রাসেল ।।
প্রকাশ: ১০ মাস আগে

আবু সুফিয়ান রাসেল।।

 

বাবা মসজিদ কমিটির সভাপতি। ছোট ছেলে সহ-সভাপতি। বড় ছেলে একই কমিটির সেক্রেটারি। গত আট বছর এ কমিটি মসজিদ পরিচালনা করছেন। বাবা-ছেলের কমিটিতে লক্ষ লক্ষ টাকার অনিয়মের অভিযোগ। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে করেছেন মুসল্লিরা। সম্মেলন শেষে সংঘর্ষ লিপ্ত হয় । গ্রামের দুই পক্ষ। পুলিশ এসে পরিবেশ শান্ত করে। মঙ্গলবার (৯ মে) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ছোটখিল জামে মসজিদ এমন ঘটনা হয়।

সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন ছোটখিল জামে মসজিদের মুসল্লি আনোয়ার হোসেন ও জাফর আহমেদ। বক্তব্যে তারা বলেন, ছোটখিল গ্রামের একমাত্র জামে মসজিদ এটি। গ্রামের প্রায় চার শতাধিক মানুষ এতে নামাজ পড়ে। গত আট বছর সভাপতি হাজী তাজুল ইসলাম মেম্বার। তার ছোট ছেলে মো. ইউসুফ মজুমদার সহ-সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। সেক্রেটারীর হলো সভাপতির বড় ছেলে খিরনশাল ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোস্তফা মজুমদার। গত আট বছরে তারা ছয় লক্ষ টাকা চুরি করেছে। বাবা ছেলের কমিটির কোন হিসাব মুসল্লিদের জানায় না। আমরা মসজিদে এবাদত করতে চাই। সোহাগ নামের একজনের মসজিদের টাকায় সুদের কারবার করে, এটার প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। মসজিদের এসি ব্যবহার করলে তাদের পরিবারের অনুমতি নিতে হয়।
তারা ঘোষণা দিয়েছে সভাপতি হতে গেলো ২০ লাখ, সেক্রেটারি হতে ১০ লাখ টাকা দিতে হবে। পরিবারতন্ত্র থেকে গ্রামবাসী মুক্তি চায়।

সংবাদ সম্মেলন শেষে সভাপতি তাজুল ইসলামের ছেলে ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ আলী মজুমদার তার লোকদের নিয়ে মুসল্লিদের উপর হামলা করে। এতে সংঘর্ষ লিপ্ত হয়
গ্রামের দুই পক্ষ। এতে চেয়ার ভাংচুর ও মসজিদে তালা আটকে দেয় সভাপতির পরিবার।

অভিযোগের বিষয়ে সহ-সভাপতি ইউসুফ আলী মজুমদার বলেন, আমার আব্বা সভাপতি। বড় ভাই সেক্রেটারি আমাদের না জিজ্ঞাস করে মসজিদের সামনে সংবাদ সম্মেলন। এটা জেনে আমার যুবলীগ কর্মী সোহাগ একটু কথা বলেছে। সে ওসি সাহেবের নিকট মাপ চেয়েছে। আর ভুল হবে না।

চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ছোটখিল জামে মসজিদ কমিটি নিয়ে একটা দ্বন্দ্ব আছে। তাদের মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। তাৎক্ষনিক একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়, উভয় পক্ষ থেকে অঙ্গিকার নামা রেখে থানা থেকে তাদের বিদায় করা হয়েছে। আমরা বলেছি, সামনের দিনে এমন কিছু হলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।