বাল্য বিবাহের দায়ে মৌলভীকে জরিমানা করায় তুলকালাম!

চান্দিনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিরুদ্ধে গ্রাম্য সালিশ!
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ মাস আগে

কুমিল্লার চান্দিনায় বাল্য বিবাহ পড়ানোর অপরাধে এক মৌলভীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত। ওই ঘটনায় সন্দেহ ভাজন এক ব্যক্তিকে তথ্যদাতা চিহ্নিত করে তার বিরুদ্ধে গ্রাম্য সালিশ বসায় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যানসহ মাতব্বররা। এ ঘটনায় আহত হারুনুর রশিদ এর ছেলে নেছার উদ্দিন বাদী হয়ে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) চান্দিনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ভ্রাম্যমান আদালতকে তথ্য দেয়ার অভিযোগ এনে আবুল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করার পর তিনি ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে করা হয় মারধর। এ ঘটনায় আহতাবস্থায় তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের প্রার্থনা করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন আহতরা।

ঘটনাটি ঘটছে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের সুহিলপুর গ্রামে। গত ১৪ এপ্রিল বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে মৌলভীকে জরিমানা করে এবং ১৮ এপ্রিল ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানার বিরুদ্ধে এলাকায় সালিশ বৈঠক হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল ওই গ্রামের জনৈক জয়নাল আবেদীন এর বাড়িতে তার ১৬ বছরের ছেলের সাথে আপন খালাতো বোনের (১৩) বিবাহ সম্পন্ন হয়। ওই গ্রামের মসজিদের ঈমাম মৌলভী ইকবাল বারী হোসেন ওই বিবাহ পড়ান। ওই বাল্য বিবাহের খবর পেয়ে ঘটনার দিন ইকবাল বারী নামের ওই মৌলভীকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আদালতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এর দায়িত্ব পালন করেন চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাবের মো. সোয়াইব। ভ্রাম্যমা আদালতের ওই রায়ের বিরোধীতা করে বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) মৌলভী স্থানীয়ভাবে সালিশ দরবার আহবান করেন। ওই সালিশ দরবারে আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তথ্যদাতা চিহ্নিত করে বৈঠক হয়। সুহিলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সরকার সহ গ্রাম্য মাতব্বর সাইফুল ইসলাম খোকন এর নেতৃত্বে ওই সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে সন্দেহভাজন তথ্যদাতাকে আবুল হোসেনকে ২০ হাজার টাকা ও বরের পিতাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য্য করা হয়। সন্দেহভাজন তথ্যদাতা জরিমানা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার পক্ষের মো. হারুনুর রশিদ ও তার ছেলে মো. সুমন এবং বরের পিতা জয়নাল আবেদিনকে বেধরক মারধর করে সালিশকর্তারা। এছাড়া তাদের ঘর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদেরকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় আহত হারুনুর রশিদ এর ছেলে নেছার উদ্দিন বাদী হয়ে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) চান্দিনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

আবুল হোসেনকে কেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের তথ্যদাতা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং কেন তার বিরুদ্ধে সালিশ দরবার ডাকা হয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভী ইকবাল বারী ‘বিষয়টি শেষ হয়ে গেছে’ বলে ফোন কেটে দেন।

সুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন সরকার এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

গ্রাম্য মাতব্বর সাইফুল ইসলাম খোকন বিষয়টি নিয়ে ঘুড়িয়ে প্যাঁচিয়ে নানা কথা বললেও সর্ব শেষ তিনি জানান, আবুল হোসেন এর টাকা আমার কাছে আছে আমি টাকা দিয়ে দিবো।

চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আহাম্মদ সনজুর মোরশেদ পিপিএম জানান, লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিব।

চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জাবের মো. সোয়াইব জানান, যে বাল্য বিবাহ পড়িয়েছেন তিনি নিবন্ধিত কাজী নন। সালিশের বিষয়টি আমি বৃহস্পতিবার রাতে শুনেছি। চান্দিনা থানা পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে রাতেই নির্দেশনা দিয়েছি।