মেঘনায় চুরির অপবাদে যুবককে গাছে ঝুলিয়ে পেটালো ইউপি সদস্য

ভিডিও ভাইরাল-
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৬ মাস আগে

কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বড়কান্দা ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামে টিউবওয়েল চুরির অপবাদে মো: রাসেল ( ২৭) নামের এক যুবককে দড়ি দিয়ে বেঁধে গাছে ঝুলিয়ে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে বড়কান্দা ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহ আলমের বিরুদ্ধে। পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর চর্তুদিকে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর)সকালে উপজেলার বড়কান্দা ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামের মনির হোসেন মৃধার বাড়িতে টিউবয়েলের উপরের অংশ চুরি করে বস্তায় নেওয়ার সময় স্কুল ছাত্র দেখে চিৎকার দিলে এলাকাবাসী রাসেল নামের এক যুবককে আটক করে। নির্যাতিত যুবকের বাড়ি জেলার হোমনা উপজেলার বাবরকান্দি এলাকার কুদ্দুস মিয়ার ছেলে ।

স্থানীয় সূত্র জানা যায়, চুরি করে বস্তায় নেওয়ার সময় স্কুল ছাত্র দেখে চিৎকার দিলে এলাকাবাসী রাসেল করে আটক করে । এ সময় তার ব্যাগ থেকে একটি টিউবওয়েল মাথা উদ্ধার করা হয়। পরে বড়কান্দা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহ আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যুবককে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে একটি গাছে ঝুলানো হয় । পরে লাঠি দিয়ে তাকে পেটাতে থাকে। এই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, রাসেল বারবার তাকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করে এবং তার সন্তান বাবা-মার কথা বলে সে। তারপরও যুবককে পেটাতে থাকে ইউপি সদস্য। পরে দুপুর ১২ টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে যুবককে থানায় নিয়ে আসে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বড়কান্দা গ্রামের সিরাজ মিয়া জানান, গত কয়েকদিন ধরে আমাদের গ্রামের টিউবয়েলের মাথা চুরি হয়ে আসছিল । আজকে (বৃহস্পতিবার )সকালে মনির মৃধার বাড়িতে টিউব ওয়েল চুরি হয়। এ সময় এক যুবককে আটক করা হলে তার কাছ থেকে একটি টিউব ওয়েলের মাথা পাওয়া যায়। পরে শাহ আলম মেম্বার আসে কিছু ছেলেপুলে নিয়ে। পরে তাকে রশি দিয়ে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে । এসময় শাহ আলম মেম্বার লাঠি দিয়ে তাকে পেটায়।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শাহ আলমের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

বড়কান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন রিপন জানান, বড় কান্দা গ্রামে টিউবল চুরি হচ্ছিল কয়েকদিন যাবত এটা শুনেছি । এক যুবককে আটক করা হয়েছে টিউবয়েল চুরি করার সময় বলে শুনেছি । তবে যুবককে গাছের সাথে বেঁধে পেটানোর ঘটনা ঠিক করেনি মেম্বার সাহেব। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। মেম্বার সাহেব এটা অন্যায় কাজ করেছেন। তাকে পুলিশে দিয়ে দেওয়া দরকার ছিল ,মারা ঠিক হয়নি।

সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (হোমনা সার্কেল) মীর মহসিন মাসুদ রানা জানান, যুবককে আমরা থানার নিয়ে এসেছি । তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইউপি সদস্য শাহ আলম কে আমরা খুঁজছি। তাকে এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে না , তাকে পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব ।