যানজটে আটকা ডিআইজি, ওসিকে প্রত্যাহার!

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ মাস আগে

জরুরি কাজে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যান চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লা -সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের মুরাদনগর থানার কোম্পানীগঞ্জ বাজারে দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়েন তিনি। এ সময় ফোন করেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাননি। এ ঘটনার জের ধরে ওসি আবুল হাসিম স্ট্যান্ড রিলিজের আদেশ পান। বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দুপুরে ওসিকে মুরাদনগর থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুর রহীম। তবে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক সড়ক পথে মুরাদনগর থানার কোম্পানীগঞ্জ এলাকা দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছিলেন। এ সময় কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাস টার্মিনাল এলাকায় তিনি যানজটের কবলে পড়েন। ৩০ মিনিট তিনি যানজটে আটকা থাকার পর বিষয়টি কুমিল্লা পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। পরে খবর পেয়ে সাদা পোষাকে হন্তদন্ত হয়ে রাস্তায় ছুটে আসেন ওসি। কিন্তু ততক্ষণে ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়।
এদিকে শনিবার পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের একটি আদেশের বরাত দিয়ে কুমিল্লা পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত স্মারক নং এ্যাডমিন ৬২৬৬ একটি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘ওসি আবুল হাসিমকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুমে সংযুক্ত করা হলো। নির্দেশিত কর্মস্থল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে শনিবার দুপুর ২ঘটিকার মধ্যে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়।’ তবে প্রত্যাহারের ওই আদেশে ডিআইজির যানজটে আটকে থাকার কোন বিষয় উল্লেখ করা হয়নি।
মুরাদনগর থানার প্রত্যাহারকৃত ওসি আবুল হাসিম বলেন, ডিআইজি স্যার ওই সড়ক পথে সকাল বেলা ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাবেন এমন কোন তথ্য আমার কাছে ছিল না। তাছাড়া এই মহাসড়কের যানজট নিরসনে হাইওয়ে পুলিশ এবং ট্রাফিক পুলিশ নিয়োজিত ছিলেন। তারপরও আমি খবর পেয়ে যানজট নিরসনে যাই। আবুল হাসিম বলেন, আমি চিঠি পেয়েই থানার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্য রওনা হয়েছি।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য নেয়ার জন্য বার বার ফোন করে তাকে পাওয়া যায়নি। কখনও কল কেটে দেন। কখনও ব্যস্ত পাওয়া যায়।