লাকসামে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত অন্তত অর্ধশত

# মনোনয়ন প্রত্যাশী দোলার গাড়ি বহরে মনোনয়নপ্রাপ্ত কালাম গ্রুপের হামলার অভিযোগ # আমাকে জানে মেরে ফেলার জন্যই এ হামলা- সামিরা আজিম দোলা
ফারুক আল শারাহ, লাকসাম ।।
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত কর্নেল (অব.) এম. আনোয়ার-উল আজিমের কন্যা বিএনপি’র চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রত্যাশী সামিরা আজিম দোলার গাড়ি বহরে হামলা ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের ছনগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় সামিরা আজিম দোলা সহ তাঁর অর্ধশত অনুসারী আহত হয়েছেন। সামিরা আজিম দোলা তাৎক্ষনিক এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল আমাকে জানে মেরে ফেলার। আমি এ বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের নিকট সুবিচার চাই। দোলার অনুসারীরা জানিয়েছেন, কালাম গ্রুপের হামলায় তাদের অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছে। হামলার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লাকসাম থানার ওসি নাজনীন সুলতানা বলেছেন, “ঘটনার পর পরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনা এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে। এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে সামিরা আজিম দোলা, বিএনপি নেতা আব্দুর রহমান বাদল ও জসিম উদ্দিন রয়েছেন। তাদেরসহ বাকিদের উদ্ধার করে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
লাকসাম উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নাজিয়া বিনতে আলম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় দোলাসহ অন্তত ১৮ জন তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে দোলাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠনো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিমের মেয়ে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত সামিরা আজিম দোলা পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ছনগাঁও এলাকায় গণসংযোগে যান। এ সময় একই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় শিল্প বিষয়ক সম্পদ আবুল কালামের সমর্থকরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।
এক পর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়। সংঘর্ষের সময় একটি মাইক্রোবাস ও বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয় বলেও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। সামিরা আজিম দোলা সাংবাদিকদের বলেন, “ছনগাঁও আমাদের একটি মহিলা সমাবেশ ছিল। সেটি করতে দেবেনা বলে প্রতিপক্ষের লোকজনের পক্ষ থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তারপরও আমার নেতাকর্মীদের কথা বিবেচনা করে আমি যাই। তখনি হামলা হয়।
“সেখানে অনেক নারীসহ আমার নেতাকর্মী আহত হয়েছে। যারা এ কাজ করেছে তারা বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী হতে পারে না। তাদের উদ্দেশ্য ছিল আমাকে ও আমার অনুসারী হাজী জসিম উদ্দিনকে জানে মেরে ফেলার। আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তারা এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে আমি আমার নেতা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জননেতা তারেক রহমানের নিকট সুষ্ঠু বিচার চাই।
দোলার অনুসারী জসিম উদ্দিন বলেন, “আমার মাথা ফেটে গেছে। অন্তত ৫০ জন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে। “ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”
সামিরা আজিম দোলার অনুসারী হাজী জসিম উদ্দিন ও জাহিদুল ইসলাম জানান, গত ৩ নভেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারাদেশের ২৩৭টি সংসদীয় আসনে মনোনয়ন ঘোষণাকালে লাকসাম উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. আবুল কালামকে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। সম্ভাব্য তালিকায় সামিরা আজিম দোলার নাম না থাকলেও চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় তিনি গত সপ্তাহখানেক থেকে মাঠ পর্যায়ে তারেক রহমানের ৩১ দফার লিফলেট বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মূচি অব্যাহত রেখেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার ১১টা থেকে তিনি লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নে লিফলেট বিতরণ ও উঠান বৈঠকের কর্মসূচি শুরু করেন। ইউনিয়নের কেমতলি উঠান বৈঠক শেষে গাড়ি বহর নিয়ে ছনগাঁও যাওয়ার পথে উঠান বৈঠকের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছার আগেই আবুল কালামের অনুসারীরা গাড়িবহর আটকে ভাংচুর ও দোলার অনুসারীদের উপর হামলার হামলা শুরু করে। এসময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, যা চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রত্যাশী সামিরা আজিমের উপর আঘাত হানে। নেতা-কর্মীরা ঢাল হয়ে দোলাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের উপরও হামলা চালায়। হামলায় বিএনপি নেতা হাজী জসিম উদ্দিন, আবদুল হালিম, নুরু, শামছুল হক, যুবদল নেতা আবুল কাশেম, ফয়সল, জাহিদুল ইসলাম, সাগর, পারভেজ, আলাউদ্দিন, মন্টু, মোরশেদ আলমসহ প্রায় অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হন।
এদিকে ধানের শীষ প্রতীক পাওয়া আবুল কালামের সমর্থক উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম হামলার অভিযোগ প্রত্যাখান করে বলেছেন, “আজকে কালাম গ্রুপের কোনো প্রোগাম ছিল না সেখানে। আর আমরা দলের মনোয়ন পেয়েছি, ফলে অমরা কেন এলাকায় বিশৃঙ্খলা করব।?” এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওয়ায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
সামিরা আজিম দোলা ও তার অনুসারীদের অভিযোগের বিষয়ে মোশারফ হোসেন মুশুর মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।