সন্তানের মুখ আর দেখা হল না ফায়ার সার্ভিসকর্মী মনিরুজ্জামানের

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ সপ্তাহ আগে

নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম সীতাকুন্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কনটেইনার ডিপোতে শনিবার রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় মর্মান্তিক ভাবে নিহত হয়েছে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাইয়ারা গ্রামের ফায়ার সার্ভিসকর্মী মনিরুজ্জামান। তিনি ওই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সামছুল হকের ছোট ছেলে। মনির কুমিরা ফায়ার স্টেশনে নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। রবিবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মনিরুজ্জামানের লাশ সনাক্ত করেন তার মামা মীর হোসেন।
মনিরুজ্জামানের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের নাইয়ারা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুল হকের ৫ ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে মনিরুজ্জামান সবার ছোট। গত ৭ বছর পূর্বে সে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সে যোগ দেন। যোগ দেয়ার পর থেকে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন ২ মাস পূর্বে চট্টগ্রামের কুমিরা ফায়ার স্টেশনে নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে যোগ দেন। মনির ৫ বছর পূর্বে ভালোবেসে বিয়ে করেন বরিশাল জেলার গলাচিপা উপজেলার বাঁশখালী গ্রামের শোহরাব মুন্সির মেয়ে মাহমুদা আক্তার মুক্তাকে। তিনি ২ কন্যা সন্তানের জনক। তার বড় মেয়ে জন্মের পরপরই মৃত্যু বরণ করেন, দ্বিতীয় কন্যা জান্নাতুল মাওয়া ২ মাস পূর্বে জন্ম গ্রহণ করেন।
মনিরুজ্জামানের মামা মীর হোসেন বলেন, রবিবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি অগ্নিকান্ডের ঘটনায় কয়েক জন ফায়ার সার্ভিসকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। খবর দেখে আমি মনিরের মোবাইলে ফোন করে ফোন বন্ধ দেখে আমি ছুটে যাই চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতালে, সেখানে অনেক পুড়ে যাওয়া মৃত দেহের মাঝে আমার ভাগিনার লাশ দেখে চিনতে পারি। গত ২দিন পূর্বে আমি কুমিরায় গিয়ে মনিরের সঙ্গে সারা দিন ঘুরেছি। অনেক আড্ডা দিয়েছি, এক সাথে খেয়েছি। সেই দিনই হয়েছিলো আমার সাথে মনিরের শেষ কথা।
মনিরুজ্জামানের ভাতিজা শাহেদ বিন রাতুল বলেন, আমার চাচি উনার বাবার বাড়ী বরিশালে আছেন। তাদের পরিবারের কয়েক জন সহ উনারা চট্টগ্রামে আসছেন। তিনি এসে পৌঁছালে মরদেহ নিয়ে আমরা বাড়ীতে রওয়ানা করবো। মনিরুজ্জামানের মৃত্যুতে তার বাড়ীতে চলছে শোকের মাতম।