চাঁদপুরে আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে নুর মোহাম্মদ (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে সুজন সরকারকে (৩৫) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সুজন সরকার জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী দক্ষিণ ইউনিয়নের উত্তর ঘোড়াধারী গ্রামের সরকার বাড়ির সুদর্শন আইচ্চাইল্লা সরকারের ছেলে। তিনি পেশায় জেলে এবং বড় স্টেশন এলাকায় মাছের ব্যবসা করতেন।
হত্যার শিকার নুর মোহাম্মদ চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন ক্লাব রোড এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় কসাই ছিলেন এবং বড় স্টেশন এলাকায় গরু জবাই ও মাংস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২ মার্চ রাতে মতলব দক্ষিণ উপজেলার ঘোড়াধারী গ্রামের বিলের বাড়ির পশ্চিম পাশে ইউনুছ তালুকদারের খালি জমিতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে গ্রাম পুলিশ নিমাই দাস স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসেনকে খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হলে মতলব দক্ষিণ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরদিন ৩ মার্চ ইউপি সদস্য জাকির হোসেন বাদী হয়ে মতলব দক্ষিণ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ সুজন সরকারকে গ্রেফতার করে ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর আদালতে সোপর্দ করে।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, বড় স্টেশন এলাকায় ব্যবসা করার সুবাদে নুর মোহাম্মদ ও সুজন সরকারের মধ্যে পরিচয় এবং আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই লেনদেনকে কেন্দ্র করে সুজন নুর মোহাম্মদকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তৎকালীন মতলব দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তপন চন্দ্র দাস তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ২৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কোহিনুর রশিদ জানান, দীর্ঘ ১০ বছরে মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা এবং আসামির অপরাধ স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আদালত তার উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। তবে অভিযোগে থাকা অন্য তিন আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আসামি পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট রাজেস মুখার্জী।