চাঁদপুরে বেওয়ারিশ লাশ বহনের দুটি অ্যাম্বুলেন্স বিকল, ভোগান্তি

চাঁদপুর প্রতিনিধি।।
প্রকাশ: ২ ঘন্টা আগে

চাঁদপুরে বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার হলেই দাফনের জন্য ডাক পড়ে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসানের’। এই কাজের জন্য সংস্থাটির দুটি অ্যাম্বুলেন্স আছে। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স দুটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এতে বিপাকে পড়েছে বেওয়ারিশ লাশ নিয়ে কাজ করা সরকারি বিভিন্ন দপ্তর। অ্যাম্বুলেন্স সেবা না থাকায় লাশ বহন করা হচ্ছে খোলা অটোরিকশা বা ভ্যানে করে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় প্রতি মাসে গড়ে পাঁচটি বেওয়ারিশ লাশ আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসানের সহায়তায় চাঁদপুর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হয়। কোনো মাসে এর সংখ্যা কমবেশিও হয়। নৌ দুর্ঘটনা এবং বিভিন্ন থানা থেকে আসা এসব লাশের গোসল, কাফন ও দাফনের কাজ আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসানই করে থাকে।

১৯৫২ সালে সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আবদুল করিম পাটওয়ারীর উদ্যোগে চাঁদপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসান’। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনি সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তাঁর বড় ছেলে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নেতা আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী দায়িত্ব নেন। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পলাতক আছেন। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে গঠিত ১৭ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি সংস্থাটির দায়িত্ব গ্রহণ করে। সংস্থার বর্তমান সভাপতি রুহুল আমিন সরকার বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা একটি অ্যাম্বুলেন্স কুমিল্লা থেকে নিয়ে আসি, যা বর্তমানে হাজীগঞ্জের একটি গ্যারেজে মেরামতের জন্য আছে। অপরটি পুরোনো হওয়ায় অচল অবস্থায় রয়েছে। একজন ম্যানেজার নিয়োগ করেছি, যিনি সব হিসাব-নিকাশ রাখছেন। তবে সংস্থার পূর্বের কোনো হিসাব আমাদের কাছে নেই।’

দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা একটি অ্যাম্বুলেন্স কুমিল্লা থেকে নিয়ে আসি, যা বর্তমানে হাজীগঞ্জের একটি গ্যারেজে মেরামতের জন্য আছে। অপরটি পুরোনো হওয়ায় অচল অবস্থায় রয়েছে।

রুহুল আমিন সরকার, সভাপতি, আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসান, চাঁদপুর

আঞ্জুমানে খাদেমুল ইনসান সূত্রে জানা যায়, বেওয়ারিশ লাশ বহনের জন্য ২০১৪ সালে সংস্থাটি ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স কেনে। ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করেন। দুটি অ্যাম্বুলেন্সই সংস্থার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও। আয়-ব্যয়সহ সবকিছুই তিনি দেখাশোনা করতেন এবং তাঁর নিজস্ব চালকেরাই এগুলো চালাতেন।