বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকা এ রেশম কেন্দ্রে এখন জনবল মাত্র দুইজন। এর মধ্যে একজন ম্যানেজার, অপরজন টেকনিক্যাল সুপারভাইজার। এ ছাড়া একজন সহকারী পরিচালক আছেন অতিরিক্ত দায়িত্বে। তুঁত গাছের চারা রোপণ, পরিচর্যা, রেশম কীট লালনপালনে দৈনিক ৪৫০ টাকা মজুরিতে রয়েছেন ৮ শ্রমিক।
পাঁচ উন্নত রেশম কীট
বিন্দু আকৃতির ডিম, ডিম থেকে রেশম কীট। বগুড়ার রেশম বীজাগার থেকে সংগ্রহ করা হয় উন্নত জাতের রেশম ডিম। পরে এসব ডিম নারী-পুরুষ জাতের ক্রসের মাধ্যমে প্রজনন প্রক্রিয়ায় উন্নত জাতের রেশম ডিম ও বাচ্চা (রেশম কীট) উৎপাদন করা হয়। ময়নামতিতে এফটিবি, বিএনএমসহ ৫টি উন্নত জাতের রেশম কীট আছে। শুরু থেকে পূর্ণাঙ্গ গুটি তৈরি হতে সময় লাগে ৩ সপ্তাহ। এ কেন্দ্রের টেকনিক্যাল সুপারভাইজার তাহমিনা আক্তার সীমা বলেন, একটি ডিম ফুটালে ৪০০ রেশম কিটের বাচ্চা পাওয়া যায়। এ রকম ১০০ ডিমের সরকারি দাম মাত্র ২০৫ টাকা, যা থেকে ৪০ হাজার রেশম কীট পাওয়া যায়। ১০০ ডিম ও কীটের মাধ্যমে ৪০/৫০ কেজি গুটি পাওয়া যায়। প্রতি কেজি গুটি ৬-৭শ টাকায় বিক্রি করা যায়।
তিনি বলেন, একটি উন্নতমানের শাড়ি তৈরিতে ২ কেজি গুটিই যথেষ্ট। এখানকার রেশম কীট দেশের বিভিন্ন শিল্প ইউনিটে বিশেষ করে ঢাকা ও রাজশাহীতে তাদের চাহিদা অনুযায়ী পাঠানো হয়। এখানে শীত-গ্রীষ্ম সব ঋতুতে উন্নত দেশি ও বিদেশি জাতের রেশম উৎপাদন করা হয়।
রেশম গুটি বিক্রি ও বিনামূল্যে ডিম সরবরাহ
ময়নামতি রেশম কেন্দ্রের ম্যানেজার হায়দার আলী বলেন, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ রেশম কেন্দ্রে ৩৫ হাজার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩১ হাজার রেশম ডিম উৎপাদন করা হয়েছে। এসব রেশম ডিম ঢাকা, বগুড়া, রাঙামাটি, কুমিল্লা, গাজীপুর এলাকায় রেশম চাষিদের মাঝে বিনামূল্যে ৬৬ হাজার রেশম ডিম সরবরাহ করা হয়েছে। এসব ডিমের বাজারমূল্য ১৩ লাখ টাকার বেশি।
রেশম চাষে সংশ্লিষ্টরা জানান, রেশমশিল্পকে বাঁচাতে ও লাভজনক করতে বিদেশি সুতা ও বস্ত্রের আমদানি শুল্ক বাড়ানোসহ কঠোর নীতিমালা করা জরুরি। রেশম চাষিদের বেশির ভাগ প্রান্তিক ভূমিহীন। তাদের উৎপাদিত সুতা ও গুটি বাজারজাত করায় প্রতিবন্ধকতা দূর করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে।
আয় লাখ টাকা, ব্যয় ১০ লাখ
দীর্ঘ দিন বড় ধরনের ভর্তুকিতে চলছে দেশের বিভিন্ন রেশমকেন্দ্র। প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে বাঁচাতে জনবল, বেতন, উৎপাদন খরচ, বিদ্যুৎ বিলসহ নানা খাতে বছরে সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। ‘বাংলাদেশ রেশমশিল্পের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা (২য় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি মূলত রেশমশিল্পের উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণে সরকারের সেবামূলক প্রকল্প। ময়নামতি রেশমকেন্দ্র থেকে গত দুই অর্থবছরে সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে প্রায় এক লাখ টাকা। কিন্তু এ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ বিল মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। এ ছাড়া জনবল, দৈনিক শ্রমিকসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে পরিশোধ করতে হচ্ছে বছরে ১০ লক্ষাধিক টাকা।
আঞ্চলিক রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়-ঢাকার উপপরিচালক (ময়নামতির সহকারী পরিচালক) আব্দুল মালেক বলেন, বর্তমানে প্রকল্পের অধীনে দেশের ২৩ জেলায় রেশমকেন্দ্র আছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও অর্থ সংকটের মাঝেও রেশম ডিম ও গুটি উৎপাদনে ময়নামতিসহ দেশের অন্যান্য রেশমকেন্দ্রের সফলতা আছে বলা যায়।
তিনি বলেন, দেশে রেশমি সুতার এখনও যথেষ্ট চাহিদা থাকলেও বিদেশি সুতা ও নকল সুতা বাজার দখল করে আছে। এ কারণে এ শিল্পে সুদিন ফিরতে যেসব প্রতিবন্ধকতা আছে, সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে।